• কিন্নর আখড়ায় মুক্তির বার্তা গঙ্গাসাগরে, উঠে এসেছে দীর্ঘ জীবনসংগ্রামের কাহিনি
    এই সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, গঙ্গাসাগর: কপিলমুনির আশ্রমের পিছনে ধুনোর ধোঁয়া, শঙ্খধ্বনি ও মন্ত্রোচ্চারণের চেনা আবহের মধ্যেই এ বছর গঙ্গাসাগর মেলায় সূচনা হলো এক নতুন অধ্যায়ের। নাগা সাধুদের চেনা ভিড়ের মাঝেই প্রথমবারের মতো আখড়া গেড়ে বসলেন কিন্নর সাধকেরা। জুনা আখড়ার অধীনে থাকা পাঁচজন কিন্নর সাধক ও সাধিকার এই উপস্থিতি শুধু মেলার বৈচিত্রই বাড়াল না, বরং যুগ যুগ ধরে চলে আসা সামাজিক বিভেদের প্রাচীর ভাঙার এক দৃঢ় বার্তাও তুলে ধরল।

    আখড়ার ভেতরে প্রজ্জ্বলিত হোমকুণ্ডের সামনে বসে নিয়ম মেনে আহুতি দিতে দেখা গেল কিন্নরদের। কপালে লাল টিপ, চোখে কাজল আর গলায় রুদ্রাক্ষের মালায় তাঁদের সাজ যেমন নজর কাড়ছে, তেমনি তাঁদের কথায় উঠে আসছে দীর্ঘ জীবনসংগ্রামের কাহিনি। কিন্নর সাধিকা বৈষ্ণবী জগদম্বানন্দগিরি আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, ‘ঈশ্বরের কাছে পৌঁছনোর পথ সবার জন্যই খোলা। আমরা শুধু শরীর নিয়ে আলাদা, মন আর বিশ্বাস তো সবার মতোই।’

    শৈশব থেকেই পরিবার ও সমাজের অবহেলায় ঘরছাড়া হওয়ার যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন তাঁরা। রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো, অবজ্ঞা আর লাঞ্ছনার দিনগুলোর স্মৃতি রোমন্থন করে শ্রীমহন্ত চারুলতা অবন্তিকানন্দগিরি জানান, সাধনার পথই তাঁদের মানুষ হিসেবে প্রকৃত সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছে। জুনা আখড়ার আশ্রয়ে এসে তাঁরা এখন সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকারী। গঙ্গাসাগরে তাঁদের উপস্থিতি পুণ্যার্থীদের মধ্যেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। কৌতূহলের পাশাপাশি শ্রদ্ধাভরে বহু মানুষ তাঁদের কাছে আশীর্বাদ নিতে আসছেন। সাধকেরা জানান, বহুচরা ভগবতী মায়ের নামে তাঁরা সকলকে আশীর্বাদ করছেন। এর আগে কুম্ভমেলাতেও আখড়া খুলেছিলেন কিন্নর সাধকেরা।

  • Link to this news (এই সময়)