মিল্টন সেন, হুগলি, ১৫ জানুয়ারি: বিশাল এলাকা জুড়ে বসেছে মেলা। চারদিকে শুধুই মাছ। রয়েছে চুনো পুঁটি থেকে ৫০ কেজি ওজনের মাছ। নিমেষে ফুরিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কেজি মাছ। রাঘব বোয়াল থেকে টুনা লালমোহন, শঙ্কর থেকে পোনা, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কেনার জন্য ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়েছে। নানা ধরনের, নানা ওজনের মাছের সম্ভারে জমজমাট ওয়ে উঠেছে কেষ্টপুরের মাছের মেলা।
বাংলা মাঘ মাসের প্রথম দিন ঘুম থেকে উঠেই সেই মেলায় জমে উঠেছে ক্রেতাদের ভিড়। আনুমানিক ৫১৯ বছরের পুরনো এই মাছের মেলা। প্রত্যেক বছর মকর সংক্রান্তির পরের দিন পয়লা মাঘ এই মেলা হয়। কেষ্টপুরের রঘুনাথ দাস গোস্বামীর বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় বসে এই মাছের মেলা। মেলায় মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। জিলিপি, বাদাম, ঝুঁড়ি, পিঁড়ি, কুলো থেকে মনোহারি সবই পাওয়া যায় মেলায়। কেষ্টপুরের মাছের মেলায় এবারে রয়েছে ৫০ কেজি ওজনের শঙ্কর মাছ, ৩৫ কেজি ওজনের কাৎলা মাছ। চল্লিশ কেজির ভোলা,পাঁচ ফুটের বাইন, বিভিন্ন ওজনের রুই। আর ইলিশ, ভেটকি, বোয়াল তো আছেই। রয়েছে ছোট বড় নানান ওজনের কাঁকড়াও।
কথিত আছে, মেলা শুরু হয়েছিল গোবর্ধন গোস্বামীর ছেলে রঘুনাথ দাস গোস্বামী বাড়িতে ফিরে আসার খুশিতে। সে সময় কেষ্টপুরের জমিদার ছিলেন গোবর্ধন গোস্বামী। তাঁর ছেলে রঘুনাথ দাস সন্ন্যাস নেওয়ার কারণে সংসার ত্যাগ করেছিলেন। তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর শিষ্য ছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভুর পারিষদ নিত্যানন্দের কাছে দীক্ষা নেবেন বলে পানিহাটিতে যান রঘুনাথ। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৫ হওয়ায় তাঁকে তখন দীক্ষা দেননি নিত্যানন্দ। দীর্ঘ ন’মাস পর বাড়ি ফিরে আসেন রঘুনাথ। সেই আনন্দে বাবা গোবর্ধন গোস্বামী গ্রামের মানুষকে খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। গ্রামের মানুষ তাঁর ভক্তির পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কাঁচা আমের ঝোল ও ইলিশ মাছ খাওয়ার আবদার করেন। তিনি ভক্তদের বলেন, বাড়ির পাশে আম গাছ থেকে জোড়া আম পেড়ে আনতে। মাছের জন্য পাশের জলাশয়ে জাল ফেলার নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী জাল ফেলা হয়। তার পরেই অবাক কাণ্ড, জলাশয় থেকে মেলে মাছ।
প্রতি বছর ভক্তরা রাধাগোবিন্দ মন্দিরে পুজো দিতে ভিড় জমান এই দিনে। পাশাপাশি মাছের মেলার আয়োজন হয়। দূর দূরান্ত থেকে বহু মাছ ব্যবসায়ী মাছের পসরা নিয়ে বসেন। হুগলি ছাড়াও মেলায় আসেন বর্ধমান, হাওড়া, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া থেকে মাছ বিক্রেতারা। অনেকে আবার শীতের আমেজ উপভোগ করতে মেলা থেকে মাছ কিনে পাশের আম বাগানে বনভোজনের আয়োজন করেন। সব মিলিয়ে একদিনের মেলায় জমজমাট হয়ে উঠেছে কেষ্টপুর।