• 'অপারেশন মেঘাবুরু'-তে খতম অনিলদা, সারান্ডায় গুলির লড়াইয়ে নিহত মাওবাদীদের সংখ্যা বেড়ে ১৫
    এই সময় | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • ঝাড়খণ্ডে চাইবাসা জেলার (পশ্চিম সিংভূম) সারান্ডার জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে (অপারেশন মেঘাবুরু) মোট ১৫ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে দীর্ঘক্ষণ ওই অভিযান চলে। বিকেল পর্যন্ত ১২ জন মাওবাদীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। রাতে জানা যায়, মোট ১৫ জন নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার CRPF-এর আইজি সাকেত কুমার জানিয়েছেন, নিহত ১৫ জন মাওবাদীর মধ্য়ে ১১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অনিলদা ওরফে পতিরাম মানঝি। ঝাড়খণ্ডে তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। ওডিশায় তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। NIA ঘোষণা করেছিল, অনিলদার সন্ধান দিলে ১৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

    পুলিশ জানিয়েছে, অনিলদা সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠনের সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য এবং ঝাড়খণ্ডের বহু নাশকতা ও হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। অনিলদার আসল নাম পতিরাম মানঝি। তিনি তুফান ও রমেশ নামেও মাওবাদীদের কাছে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বাবার নাম টোটো মানঝি ওরফে তারু মানঝি। আদতে গিরিডি জেলার ঝারহাবালে গ্রামের বাসিন্দা অনিলদা ১৯৮৭ সাল থেকে মাওবাদী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। ওই সময় থেকেই সারান্ডা, গিরিডি, পলামু, লাতেহার-সহ ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় জুড়ে সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

    CRPF-এর আইজি আরও জানান, বৃহস্পতিবারের 'অপারেশন মেঘাবুরু'-তে অন্য যে সব মাওবাদী নেতা নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আনমোল ওরফে সুশান্ত। তাঁর বিরুদ্ধে ১৪৯টি ফৌজদারি মামলা ছিল। ঝাড়খণ্ড ও ওডিশায় তাঁর মাথায় দাম ছিল যথাক্রমে ২৫ ও ৬৫ লক্ষ টাকা। তালিকায় রয়েছেন অমিত মুন্ডা। তাঁর মাথার দাম ছিল ৬২ লক্ষ টাকা। ৯৬টি ফৌজদারি মামলা ছিল অমিতের বিরুদ্ধে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পিন্টু লোহরা, যাঁর মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা এবং তাঁর বিরুদ্ধে ৪৭টি ফৌজদারি মামলা ছিল। লালজিত ওরফে লালু নামে অন্য এক নিহত মাওবাদীর মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা।

    ঝাড়খণ্ড পুলিশের এক কর্তা জানান, অনিলদার বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহকর্মীর দেহ শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন রাজেশ মুন্ডা, বুলবুল আলডা, ববিতা, পূর্ণিমা, সুরজমুনি এবং জোঙ্গা। তাঁদের সকলের বিরুদ্ধেই একাধিক ফৌজদারি মামলা ছিল ঝাড়খণ্ড, ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে।

    গত কয়েক মাসে ঝাড়খণ্ডে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে সেখানকার পুলিশ, কোবরা ব্য়াটেলিয়ান, জাগুয়ার ও সিআরপিএফ বড় সাফল্য পেয়েছে। সংগঠনের পলিটব্যুরোর সদস্য প্রশান্ত বোসকে সরাইকেলা-খরসঁওয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংগঠনের সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য সুধাকর ঝাড়খণ্ড থেকে পালিয়ে তেলঙ্গানা সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। গত বছরের এপ্রিলে সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য প্রয়াগ মানঝি ওরফে বিবেক এক কাউন্টারে নিহত হন। গত সেপ্টেম্বরে অন্য এক সেন্ট্রাল কমিটি সদস্য অনুজ ওরফে সহদেব সোরেন ওরফে প্রভাস ওরফে অমলেশ হাজারিবাগে পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হন।

  • Link to this news (এই সময়)