• ‘আমার কাছে কোনও পুলিশ চিকিৎসার জন্য আসবেন না...’, কোচবিহারের সরকারি চিকিৎসকের পোস্টে শোরগোল
    এই সময় | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
  • কোনও পুলিশের চিকিৎসা করব না— সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ঘোষণা করলেন কোচবিহারের এক চিকিৎসক। এখানেই শেষ নয়, সামাজিক মাধ্যমে জেলা পুলিশের  আধিকারিকদের ছবি দিয়ে বেশ কিছু মন্তব্যও করেছেন তিনি। আর যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    কোচবিহারে এক সরকারি চিকিৎসকের বাড়িতে চুরি হওয়ার ঘটনায় চার মাস পরেও কিনারা না হওয়াতে পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে জেলা পুলিশের  আধিকারিকদের ছবি দিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন। আর যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই হইচই পড়ে গেছে কোচবিহারে।

    জানা গিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ওই চিকিৎসক লিখেছেন, ‘কোচবিহারে একের পর এক চুরি হচ্ছে। চিকিৎসকদের বাড়িতেও চুরি হয়েছে। কোনও কিছুই উদ্ধার হয়নি। কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশ সব সময়ে চিকিৎসকদের  বিরুদ্ধে। তাই দয়া করে আমার আউটডোর এবং ইন্ডোর কোনও পুলিশ চিকিৎসার জন্য আসবেন না। এমজেএন মেডিক্যাল কলেজে কোনও পুলিশের চিকিৎসা করব না। পুলিশের কাজ চোর ধরা। তাদের কাজ রক্তদান শিবির করা নয়। তারা, কবিতা, মেলা, খেলাতে ব্যস্ত।’

    পরপর দুটো পোস্টে এই ধরনের নানা মন্তব্য করেছেন ওই চিকিৎসক। আর যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারি চিকিৎসক চিকিৎসা দেওয়ার বিষয় নিয়ে কিভাবে এমনটা লিখতে পারে সেই প্রশ্ন ও উঠছে। 

    কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি ডাক্তার সৌরদীপ রায় বলছেন,‘চিকিৎসক যেটা লিখেছেন খুবই বেআইনি। একজন সিনিয়র চিকিৎসক হয়ে এই রকমটা লিখতে পারেন না। মেডিক্যালে পুলিশ কর্মীদের চিকিৎসা নিয়ে আগামীতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও গাফিলতির অভিযোগ উঠলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    উল্লেখ্য, কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শল্য চিকিৎসা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর অসিত চক্রবর্তী। গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর কোচবিহার শহরের মিনা কুমারী চৌপথিতে তার ভাড়া করা ফ্ল্যাটে নগদ প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা চুরি হয়। ওইদিন  তিনি কোতোয়ালি থানায় বাড়িতে রান্নার কাজ করা মহিলা, নিরাপত্তা রক্ষী, এবং এক গ্যাস ডেলিভারিম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরে ১৮ অক্টোবর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। সেখানে আগের তিন জনের সঙ্গে নতুন করে নিজের গাড়িচালক এবং এক মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভের নামও তিনি যুক্ত করে দেন। তবে তারপরেও কিছু হয়নি বলে অভিযোগ অসিতের।

    চিকিৎসক বলেন,‘স্ত্রীয়ের চিকিৎসার জন্য বাড়িতে টাকা তুলে রেখেছিলাম। দিনের বেলা ফ্ল্যাট থেকে টাকা চুরি হয়ে গেল। অথচ কোনও কিছুই হলো না। যারা এ কাজ করেছে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশের কাছে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ জমা দিয়েছি। কিন্তু কোনও বিচার পেলাম না। আরও দু’জন চিকিৎসকের বাড়িতে চুরি হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তিনি সামাজিক মাধ্যমে এই কথা গুলো লিখেছেন বলে জানিয়েছেন।একই সাথে তিনি বলছেন অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি। এ ভাবে চললে কলকাতা থেকে বা বাইরে থেকে এসে এখানে আর কেউ আগামীতে কাজ করব না।

    এ সম্পর্কে জেলা পুলিশ সুপার সন্দীপ কাররা জানান, ওই চিকিৎসকের বাড়িতে চুরির বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে তিনি বলেন, ‘একজন সরকারি চিকিৎসক চিকিৎসার বিষয় নিয়ে এ ভাবে কিভাবে  লিখতে পারে? কি ব্যবস্থা নেওয়া যায় দেখা হচ্ছে।’ তবে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

  • Link to this news (এই সময়)