সইফের সিনেমায় মিমি, নেহরুযুগে ভারতের প্রথম নির্বাচনের ‘রাজসূয় যজ্ঞে’র ঝলক প্রকাশ্যে
প্রতিদিন | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
‘পোস্ত’র হিন্দি রিমেক ‘শাস্ত্রী বিরুদ্ধ শাস্ত্রী’র সুবাদেই বলিউডে পা রেখেছিলেন মিমি চক্রবর্তী। সেবার পরেশ রাওয়ালের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করে নজর কেড়েছিলেন বঙ্গনায়িকা। এবার সইফ আলি খানের ছবিতে মিমি। নেহরুযুগে দেশের প্রথম নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ‘রাজসূয় যজ্ঞ’ কীভাবে সামাল দিয়েছিলেন এক বঙ্গসন্তান? সেই কাহিনিই ‘হাম হিন্দুস্তানি’ ছবিতে নেটফ্লিক্সের পর্দায় ফুটে উঠবে। আর সেই পিরিয়ড ড্রামাতেই সইফ, প্রতীক গান্ধীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ধরা দেবেন মিমি চক্রবর্তী।
পঁচিশ সালের এপ্রিল মাসেই শোনা গিয়েছিল, ভারতের পয়লা নির্বাচন কমিশনার সুকুমার সেনের ভূমিকায় অভিনয় করতে চলেছেন সইফ আলি খান। সেসময়ে পরিচালক রাহুল ঢোলাকিয়ার ফ্রেমে মুম্বইয়ের বিভিন্ন লোকেশনে শুটিং করছিলেন বলিউড নবাব। মঙ্গলবার মুক্তিপ্রাপ্ত ঝলকে সইফ, প্রতীক-সহ মিমির চরিত্রের লুক প্রকাশ্যে এল। যেহেতু পিরিয়ড ড্রামা, তাই সাজপোশাকেও সেই অধ্যায়ের ছোঁয়া বজায় রাখা হয়েছে। টিজারের এক দৃশ্যে দর্শকাসনে বসা মিমি চক্রবর্তীকে দেখা গেল মন দিয়ে সইফ আলি খানের বক্তৃতা শুনতে এবং করতালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে। তাহলে কি এই সিনেমায় সরাসরি সইফের বিপরীতে টলিউড অভিনেত্রী? জানতে হলে চোখ রাখতে হবে নেটফ্লিক্সের পর্দায়। কারণ নির্মাতারা এখন শুধু টিজার প্রকাশ্যে এনে বুঝিয়ে দিয়েছেন ‘পিকচার অভি হ্যায়…!’ রিলিজের দিনক্ষণও ঘোষণা করা হয়নি। তবে ওয়েব প্ল্যাটফর্মে হলেও ‘হাম হিন্দুস্তানি’ সিনেমার হাত ধরেই যে দীর্ঘদিন বাদে ছকভাঙা ভূমিকায় পাওয়া যাবে মিমি চক্রবর্তীকে, তা একঝলক দেখেই বেশ আন্দাজ করা গেল।
ভারতের প্রথম গণতন্ত্রের উৎসব পরিচালনার দায়িত্ব ছিল যাঁর ওপরে, তিনি সুকুমার সেন। স্বাধীনতার বছর দুয়েক বাদে ১৯৫১ সালে পয়লা গণতন্ত্রের উৎসবে ৪৫০০ আসনে ভোট। ২,২৪,০০০ ভোটদান কেন্দ্র। কুড়ি লক্ষ ইস্পাতের ব্যালট বাক্স। ৫৬০০০ প্রিসাইডিং অফিসার, সহায়ক আরও ২৮০০০০ কর্মী। নির্বাচকদের নাম টাইপ করে নির্বাচনকেন্দ্র অনুযায়ী সাজিয়ে ভোটার লিস্ট তৈরি করার জন্য ছ’মাসের চুক্তিতে নিয়োগ করা হয়েছিল ১৬৫০০ কর্মীকে। আর এই বিপুল কর্মযজ্ঞের জন্য নেহরু, সুকুমার সেনকেই বেছে নিয়েছিলেন। সম্ভবত সেটা তাঁর একাধারে প্রসাশনিক দক্ষতা থাকার কারণে কিংবা গণিতজ্ঞ হওয়ার জন্য। বাইশ বছর বয়সে সুকুমার সেন যোগ দিয়েছিলেন ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে। প্রথমে কাজ করেছিলেন নানা জেলায়। তার পরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব পদে যোগ দেন। শোনা যায়, সেখানে থেকেই তাঁর কর্মদক্ষতার কথা পৌঁছেছিল প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর কানেও। কীভাবে সেই কর্মযজ্ঞ দক্ষ হাতে সামলান বর্ধমানের ভূমিপুত্র? সেই গল্পই নেটফ্লিক্সের পর্দায় ফুটিয়ে তুলবেন সইফ আলি খান। যে ছবিতে থাকছেন মিমি চক্রবর্তী।
জানা যায়, সদগুরু শরণে আততায়ীর হামলার মুখে পড়াতেই এই ছবির শুটিং শুরু করতে খানিক দেরি হয়েছিল সইফের। অন্যদিকে দেশের পয়লা নির্বাচন কমিশনার সুকুমার সেন সম্পর্কিত বইপত্র খুবই কম। অতঃপর এক বিস্মৃত বাঙালিকে নিয়ে তৈরি এই সিনেমা নিয়ে যে দর্শকমহলে আলাদা কৌতূহল থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।