• দিঘা উপকূলে খোঁজ নতুন দুই প্রজাতির সামুদ্রিক কীটের
    এই সময় | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: মেক্সিকোর কয়েক জন প্রাণীবিজ্ঞানী এবং জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া-র (জেডএসআই) মিলিত এক অনুসন্ধানে বাংলার দিঘা ও বাঁকিপুট উপকূল থেকে খোঁজ পাওয়া গেল অ্যানিলিডা পর্বের (ফাইলাম) অন্তর্গত দু'টি নতুন প্রজাতির সামুদ্রিক কীটের। সদ্য সন্ধান পাওয়া এই দুই প্রজাতির প্রাণীকেই 'নেরিডিড ওয়ার্ম' বা 'পলিকেট' অর্থাৎ এক ধরনের সামুদ্রিক কেঁচো হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উত্তর দিকের অর্থাৎ ওডিশা ও বাংলা-লাগোয়া অংশ যে জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এবং এই অঞ্চলে যথাযথ অনুসন্ধান চালালে নতুন প্রজাতির বেশ কিছু প্রাণীর সন্ধান পাওয়া যাবে, এমনটা অনেক দিন ধরেই দাবি করছে জেডএসআই।

    মেক্সিকোর বিজ্ঞানীদের সঙ্গে মিলিত ভাবে গবেষণা চালিয়ে অ্যানিলিডা পর্বের দু'টি নতুন প্রজাতির প্রাণীর খোঁজ পাওয়ায় সেই দাবি আরও মজবুত হলো। জ়েডএসআই জানিয়েছে, 'ডেসক্রিপশন অফ টু নিউ নেরিডিডস ফ্রম ওয়েস্ট বেঙ্গল, ইন্ডিয়া, বে অফ বেঙ্গল' শীর্ষক রিপোর্টে এই দুই প্রাণীর বৈশিষ্ট্য ও বাসস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা হয়েছে। জেডএসআই জানিয়েছে, দু'টি প্রজাতির মধ্যে একটির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে নামালিকাস্টিস সোলেনোটোনাথা। এই নামটি নেওয়া হয়েছে দু'টি গ্রিক শব্দ 'সোলেনোটোস' বা খাঁজকাটা এবং 'নাথা' বা চোয়াল থেকে। এই প্রজাতির প্রাণীর খাঁজকাটা চোয়াল থেকে অজস্র নালিকার মতো অংশ বেরিয়েছে।

    জেডএসআইএর পক্ষ থেকে বিজ্ঞানী অনিল মহাপাত্র ও জ্যোৎস্না প্রধান এবং মেক্সিকোর তুলিও ভিলালোবস-গুয়েরেরো জানিয়েছেন, এরা এরা চরম প্রতিকূল পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে। অন্য দিকে নেরিস ধৃতি নামের প্রজাতিটির নামকরণ হয়েছে জ়েডএসআই-এর প্রথম মহিলা ডিরেক্টর ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উপকূলীয় পরিবেশের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে নেরিডিডরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    বিশেষ করে পলিস্তরে অক্সিজেন চলাচলে এদের অবদান অনস্বীকার্য। জেডএসআই-এর ডিরেক্টর ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে বলেন, 'অত্যন্ত দূষিত এবং প্রকাশ্য পরিবেশেই এই দুই প্রজাতির উপস্থিতি এবং টিকে থাকার ক্ষমতা তাদের অসাধারণ সহনশীলতার প্রমাণ। এই প্রাণীরা উপকূলীয় অঞ্চলের স্বাস্থ্যের পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ বায়ো-ইন্ডিকেটর হিসেবে কাজ করে। এদের নিয়ে বিশদ গবেষণার প্রয়োজন।'

  • Link to this news (এই সময়)