• ঐতিহ্যকে রক্ষাই লক্ষ্য 'মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ উৎসব'-এর
    আজকাল | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: একসময় বাংলার নবাবী রাজধানী হিসেবে বিখ্যাত মুর্শিদাবাদের গৌরবময় অতীতকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার জন্য প্রতি বছর 'মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি'র উদ্যোগে আয়োজিত হয় মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ উৎসব।

    গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে তিন দিন ধরে চলা এই উৎসবের আজই শেষ দিন। এবারের আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ কাঠগোলার বাগান ও প্রাসাদের রাজকীয় প্রেক্ষাপট। শনিবার সন্ধ্যায় উদ্যোক্তাদের তরফে কাঠগোলা বাগানের রাজকীয় প্রেক্ষাপট এবং দুগ্গার পরিবারের বহু পুরনো প্রাসাদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হল একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির উদ্যোগে এই উৎসবে নবাবী আমলের ঐতিহ্য, স্থাপত্য, সংস্কৃতি ,শিল্পকলা এবং খাদ্য রসিকতাকে এক ছাদের নীচে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার কাঠগোলা প্রাসাদ এবং বাগান, যা দুগ্গার পরিবারের ঐতিহাসিক বাসস্থান হিসেবেই পরিচিত তার মার্বেলের মেঝে,ইতালীয় শৈলীতে নির্মিত স্তম্ভ, বিশাল বাগান ,জলাশয় এবং সেখানে অবস্থিত পারিবারিক মন্দির দেখার জন্য প্রত্যেক বছর  দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ মুর্শিদাবাদের লালবাগ শহরে আসেন। মুর্শিদাবাদ জেলাকে পর্যটন মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং এই জেলার 'ট্যানজিবল' এবং 'ইনট্যাঞ্জিবল' ঐতহ্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ পিপাসু মানুষের সামনে তুলে ধরতে ২০১০ সাল থেকেই এই সংস্থা প্রতিবছর  'মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ উৎসব' আয়োজন করে চলেছে। 

    এই উৎসবের আয়োজকদের আশা, ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও রাজপ্রাসাদ দর্শন, বিভিন্ন রকমের চিত্র প্রদর্শন, নৌকা ভ্রমণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিন দিন ধরে চলা এই উৎসব  মুর্শিদাবাদকে পর্যটনের  মানচিত্রে আরও আকর্ষণীয় জায়গায় নিয়ে যাবে। 

    এই উৎসবকে আকর্ষণীয় করার জন্য উদ্যোক্তাদের তরফে  স্থানীয় লোকনৃত্য ও লোকগান, নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ,আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আতশবাজির প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উৎসব হয়ে উঠেছে  আনন্দ এবং ইতিহাসের এক মিলনমেলা। 

    এই উৎসবের খাদ্যপ্রেমীদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ঐতিহাসিক বাড়িগুলিতে নবাবী খানাপিনার আয়োজন করা হয়েছে। রয়েছে মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত শেহেরওয়ালি খাবার। আওয়াধি ও বাঙালি ফিউশন রান্না এবং স্থানীয় বিভিন্ন মিষ্টির স্বাদ নিতে পারছেন অনুষ্ঠান এবং উৎসব দেখতে আগত দেশ-বিদেশের পর্যটকরা। 

    মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সন্দীপ নওলখা বলেন, 'আমাদের তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে সবথেকে প্রিয় পর্যটনের জায়গা মুর্শিদাবাদ। প্রায় ১৬ বছর আগে এই উৎসব প্রথম শুরু হওয়ার পর মুর্শিদাবাদ জেলার এই এলাকায় যেমন  সামাজিক- অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে তার পাশাপাশি দেশ বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের সংখ্যাও বেড়েছে। প্রত্যেক বছর কাঠগোলার বাগানে  প্রায় ১৫-১৬ লক্ষ পর্যটক  আসছেন। আমরা এই ইতিহাস প্রচার না করলে ধীরে ধীরে এই 'হেরিটেজ', এখানকার বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য রক্ষা করা সম্ভব হতো না। এই সমস্ত কিছু বাঁচানোর উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের তরফ থেকে প্রত্যেক বছর এই উৎসব করা হয়।" সন্দীপ নওলখা জানান, "মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ উৎসবের আকর্ষণে দুটি বিলাসবহুল 'ক্রুজ' খুব শীঘ্রই মুর্শিদাবাদ জেলায় আসছে এবং তাতে থাকবেন বহু বিদেশী পর্যটক।" লালবাগের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জ শহর নতুন করে 'ট্যুরিজম ডেস্টিনেশন' হিসেবে গড়ে উঠছে। সেখানে বেশ কিছু বিলাসবহুল হোটেলও তৈরি হয়েছে।  আজিমগঞ্জে জৈন সম্প্রদায়ের প্রচুর মন্দির রয়েছে। গত কয়েক বছরে বহু কোটি টাকা খরচ করে মন্দিরগুলি সংস্কার করা হয়েছে। জৈনদের এই নতুন পর্যটনস্থল নিয়ে রাজস্থান এবং গুজরাটে জৈন সম্প্রদায়ের মানুষ প্রচার চালাচ্ছেন বলেও জানান সন্দীপ নওলখা।
  • Link to this news (আজকাল)