আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাদক পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মুর্শিদাবাদের লালগোলা থানার পুলিশ তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর শরিফুল ইসলামের প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া সোমবার থেকে শুরু করল।
সরকারি নির্দেশ মেনে লালগোলা থানার পুলিশ সোমবার দুপুর থেকে লালগোলার নলডহরি-সহ বেশ কিছু এলাকায় হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর শরিফুল ইসলামের নামে থাকা বেশ কিছু সম্পত্তি এবং জমি চিহ্নিত করে সেগুলো 'ফ্রিজ' করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সূত্রের খবর, হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুরের প্রায় ১০ কোটি টাকারও বেশি ১৭ টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার থেকে শরিফুলের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হলেও আজই সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না। এই প্রক্রিয়া আগামী আরও দু'দিন চলতে পারে। বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তির মধ্যে যেমন শরিফুলের বাড়ি রয়েছে তেমনই বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত কিছু বাড়িও রয়েছে। সূত্রের খবর, একটি ব্যাঙ্ককে ভাড়া দিয়ে রাখা সম্পত্তিও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করতে চলেছে। জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর শরিফুল ইসলামের বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে তাঁরই এক আত্মীয় জিয়াউর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে প্রায় ৫০০ গ্রাম মাদক-সহ লালগোলা থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ওই মাদক উদ্ধারের পর তদন্ত নেমে লালগোলা থানার পুলিশ জানতে পারে বেআইনিভাবে মাদক পাচারের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর শরিফুল ইসলামও জড়িয়ে রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই মামলার তদন্ত করতে নেমে পুলিশ জানতে পারে গত প্রায় সাত বছরে হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর শরিফুল ইসলাম বেআইনিভাবে মাদক পাচার করে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছে। মাদক পাচারের মামলায় শরিফুলকে যুক্ত করে অবৈধ টাকায় করা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য গত ১ জানুয়ারি পুলিশের তরফ থেকে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সেই নির্দেশ আসার পর সোমবার থেকে হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুরের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
যদিও পুলিশের এই আচরণকে সম্পূর্ণ প্রতিহিংসা মূলক বলে দাবি করেছেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন," জিয়াউর রহমান নামে যে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ এই মামলা শুরু করেছে তার সঙ্গে আমার মেয়ের শ্বশুরের কোনও সম্পর্ক নেই। ওই ব্যক্তি আমার মেয়ের শ্বশুরের অনেক দূর সম্পর্কের এক আত্মীয় হন। গত ২২ ডিসেম্বর আমি নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করার পর ইচ্ছাকৃতভাবে আমার পরিবার , মেয়ের শ্বশুর, মেয়ে এবং জামাইকে 'অপদস্ত' করার জন্য পুলিশের তরফ থেকে মিথ্যা এই মামলা শুরু করা হয়েছে।"