আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহা শিবরাত্রি উপলক্ষে শিবতীর্থ জয়ন্তী মহাকাল ধামে লক্ষাধিক দর্শনার্থীদের সমাগম।প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও শিবরাত্রি উপলক্ষে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জয়ন্তী মহাকাল ধামে প্রচুর ভক্তের সমাগম লক্ষ্য করা যায়। শুধু ভক্ত নয় জয়ন্তীতে আগমন হয়েছে অনেক সাধু সন্ন্যাসীদের। শিবরাত্রি উপলক্ষে জয়ন্তী নদীর কোলে বিশাল মেলারও আয়োজন হয়েছে। প্রতিবছরই শিবরাত্রির কয়েকদিন আগে থেকে জয়ন্তীর বড় মহাকাল ও ছোটো মহাকাল ধামে লক্ষাধিক ভক্তদের সমাগম হয়। এবছর ও তার ব্যাতিক্রম নয়। প্রচুর ভক্তদের ঢল নেমেছে জয়ন্তী এলাকায়।
প্রচলিত রয়েছে, আদিম কাল থেকেই জয়ন্তী নদীর উপকূলে ভুটান পাহাড়ে নাকি দেবাদী দেব মহাদেব বিরাজমান রয়েছেন। ভুটান পাহাড়ে গুহার ভিতরে বাস মহাদেবের। ভারত সীমান্তে জয়ন্তী নদীর রাস্তা ধরে যেতে হবে ভুটান পাহাড়ে। তবেই পাওয়া যাবে মহাদেবের দর্শন। নদীর পথে দুর্গম ৪ কিমি রাস্তা অতিক্রম করেই সমস্ত ভক্তরা পৌঁছে যাচ্ছে জয়ন্তী মহাকালধামের এই শিবতীর্থে। যা বড় মহাকালধাম নামেও পরিচিত। শিবরাত্রি উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও জয়ন্তী মহাকাল ধামে লক্ষাধিক দর্শনার্থীদের সমাগম দেখা যায়। শিবতীর্থ জয়ন্তী মহাকাল ধামে প্রতি বছর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও প্রতিবেশী রাজ্য অসম ও বিহার সহ বেশ কয়েকটি রাজ্য এবং প্রতিবেশী দেশ ভুটানের থেকেও দর্শনার্থীদের সমাগম হয়।
উল্লেখ্য, প্রতিবেশী দেশ ভুটান পাহাড়ের জয়ন্তী মহাকাল ধাম পৌঁছতে হলে প্রথমে আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ঘন জঙ্গল পেরিয়ে পরবর্তীতে জয়ন্তী নদী পার করে এবং বেশ কয়েকটি পাহাড়ি নদী ও ঝর্ণা পেরিয়ে পায়ে হেঁটে প্রায় ৩০০০ ফুট উঁচু পাহাড় হয়ে তবে গিয়ে মহাকাল ধামে পৌঁছতে হয়। ভুটান পাহাড়ের সরু উঁচু পথ বেয়ে তবেই মহাকাল ধামে পৌঁছনো যাবে। বছরে অন্য সময় এই এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও মহা শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় প্রবেশ পথ। ভুটান প্রশাসন এবং আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের তরফে জয়ন্তী মহাকাল ধামে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভুটান ও আলিপুরদুয়ার প্রশাসন রয়েছে ভক্তদের সহায়তার জন্য। রাস্তা যেহেতু অনেকটা, তাই পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র, মেডিক্যাল ক্যাম্প বসানো হয়েছে দুই দেশের পক্ষ থেকে। পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পাহাড়ি খরস্রোতা নদীতে অস্থায়ী বাঁশের সেতু এবং অস্থায়ী সড়ক তৈরি করা হয়েছে। বেশ কিছু সংগঠনের থেকে মহাকাল ধাম যাওয়ার রাস্তায় ভাণ্ডারা খোলা হয়েছে।