• কমিশনের ‘চ্যাট’ ফাঁস, নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ অভিষেকের
    আজকাল | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করছে নির্বাচন কমিশন। মাইক্রো অবজার্ভারকে দিয়েই বাদ দেওয়া হচ্ছে ভোটারদের নাম। কমিশনের হোয়াটস অ্যাপের চ্যাটের স্ক্রিনশট ফাঁস করে এই অভিযোগ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পাশাপাশি তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, “কমিশন কি মনে করে যে মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ প্রকাশ্যে অমান্য করা যেতে পারে?” দলীয় সূত্রে খবর, অভিষেকের অভিযোগকে হাতিয়ার করে বুধবার দুপুরে তৃণমূলের পাঁচ জনের প্রতিনিধিদল অভিযোগ জানাতে কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাবে।

    বুধবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে একাধিক স্ক্রিনশট পোস্ট করেছেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে কোনও সরকারি আদেশ জারি করতে হলে তা নোটিস জারি করেই করতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে হোয়াটসঅ্যাপেই নির্দেশ দিচ্ছে কমিশন।

    অভিষেক যে স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন সেটি একটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের। নাম ‘ইআরএমও সাউথ ২৪ পরগনা’। দেখা যাচ্ছে, গ্রুপে বিশেষ রোল অবজ়ারভার সি. মুরুগন মাইক্রো অবজ়ারভারদের জন্ম শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন। এরপরেই অভিষেকের অভিযোগ, মাইক্রো অবজ়ারভারদের নির্দেশ দিয়ে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নামের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। 




    নিজের পোস্টে অভিষেক লিখেছেন, “আমি কি নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকাটি মনে করিয়ে দিতে পারি যে মাইক্রো-অবজারভারদের ভূমিকা কেবলমাত্র সহায়ক হতে হবে? কোনও প্রশাসনিক বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের নেই। তাহলে কেন আইনগত পদ্ধতি উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং কার নির্দেশে?”

    অভিষেক আরও অভিযোগ করেছেন যে, রোল অভজারভারদের জেলাভিত্তিক নিয়োগ করা হলেও তাঁদের লগইন কলকাতার একটি কেন্দ্রীয় স্থান থেকে অ্যাক্সেস করা হচ্ছে। তিনি লিখেছেন, “দিল্লিতে কমিশনের রাজনৈতিক প্রভুদের নির্দেশে প্রশ্ন তুলতে এবং বিশেষভাবে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে লগইন ডেটার অপব্যবহার করা হচ্ছে। যদি এই বিষয়টি স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা হয়, তাহলে এটি প্রমাণিত হয়ে যাবে যে লগইন ডিভাইসের টাওয়ারের অবস্থান এবং আইপি অ্যাড্রেস সংশ্লিষ্ট রোল অবজারভারের প্রকৃত অবস্থানের সঙ্গে আলাদা।”

    এখানেই থামেননি অভিষেক। তিনি আরও লিখেছেন, “নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থেকে নয়, জনসাধারণের আস্থা থেকে তার বৈধতা লাভ করে। আমরা এই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতের সামনে তুলে ধরব। দিল্লির জমিদারদের সঙ্গে যুক্ত বা তাদের নির্দেশে কাজ করা যে কোনও ব্যক্তিকে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখুন।”
  • Link to this news (আজকাল)