আজকাল ওয়েবডেস্ক: জলা জমির উপর 'বেআইনিভাবে' বসত বাড়ি তৈরি করার অভিযোগে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী মিরা সুলতানাকে নোটিশ পাঠাল ভুমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। মঙ্গলবার এই চিঠি ইস্যু করা হলেও হুমায়ুন পত্নী বুধবার পর্যন্ত হাতে পাননি বলেই জানা গিয়েছে।
হুমায়ুন পত্নীর বিরুদ্ধে অভিযোগ 'নালা' প্রকৃতির জমির উপরেই তিনি বসতবাড়ি তৈরি করেছেন। হুমায়ুন কবীর বর্তমানে স্ত্রী মীরা সুলতানা, পুত্র গোলাম নবী আজাদ রবিন-সহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে মুর্শিদাবাদের মানিক্যহার গ্রামে স্ত্রীর নামে নথিভুক্ত ওই বাড়িতে থাকেন।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, 'নালা' প্রকৃতির জমি বলতে সাধারণত জল নিষ্কাশনের ছোট খাল বা ডোবাকে বোঝায় যা জলাশয় বা কৃষি জমির অংশ হিসেবে গণ্য হয়। আইনত নালা ভরাট করা বা তার চরিত্র পরিবর্তন বেআইনি। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অনুমতি ছাড়া এই জমির ব্যবহার পরিবর্তন করা যায় না।
হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী মীরা সুলতানার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকলেও তিনি মানিক্যহার গ্রামে জমির চরিত্র পরিবর্তন করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে থাকছেন। সূত্রের খবর হুমায়ুন পত্নীকে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের তরফ থেকে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে গোটা বিষয়টি নিয়ে উত্তর দেওয়ার জন্য।
স্ত্রীকে পাঠানো নোটিশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি শুনেছি ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের তরফ থেকে আমার স্ত্রীর নামে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু সেই চিঠিতে কী লেখা রয়েছে আমি জানি না। বুধবার দুপুর পর্যন্ত আমরা সেই চিঠি হাতে পাইনি।" হুমায়ুন কবীর বলেন, "শক্তিপুর থানার মানিক্যহার গ্রামে যে বাড়িটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে সেখানে আমি প্রায় ১৭ -১৮ বছর ধরে থাকি। ২০০৩ সালে স্থানীয় ঠাকুর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আমি ওই জায়গাটি কিনেছিলাম। ২০০৫ সালে আমার বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয় এবং ২০০৭ সাল থেকে আমি পরিবার নিয়ে ওই বাড়িতে থাকছি। বাড়িটি আমার স্ত্রীর নামে নথিভুক্ত রয়েছে।" হুমায়ুনের কথায়, "বাড়িটির জমির চরিত্র ভূমি সংস্কার দপ্তরের খাতায় 'নালা' হিসেবে চিহ্নিত করা রয়েছে। বাম আমলে ওই জমির চরিত্র পরিবর্তন করে 'ভিটে' করার জন্য আমি বহুবার বিএলআরও এবং এসডিএলআরও অফিসে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় 'ফিজ' জমা দিয়েছিলাম। একাধিক বার ওই অফিসে ঘোরার পরও আমার আবেদন মঞ্জুর হয়নি। আমি যখন বাড়ি তৈরি করেছিলাম সেই সময় প্রশাসনের তরফ থেকে কেউ বাধাও দিতে আসেনি। জমির চরিত্র পরিবর্তন করতে চেয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে প্রশাসনের দরজায় ঘুরে ঘুরে কাজ না হওয়ায় আমি আর ওই জমির চরিত্র পরিবর্তন করার জন্য আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। এখন শুনছি আমার স্ত্রীর নামে অবৈধভাবে বাড়ি তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে।" প্রসঙ্গত সম্প্রতি লালগোলা থানার নলডহরি এলাকায় হুমায়ুন কবীরের কন্যা নাজমা সুলতানা, তাঁর শ্বশুরমশাই শরিফুল ইসলাম এবং হুমায়ুনের জামাইয়ের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির টাকায় প্রচুর বেআইনি স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি করার অভিযোগ আনা হয়েছে পুলিশের তরফে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইতিমধ্যে পুলিশ হুমায়ুনের মেয়ের শ্বশুরবাড়ির প্রায় ১৫ কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি 'ফ্রিজ' করেছে। হুমায়ুন পত্নীকে দেওয়া লিখিত নোটিশে জানানো হয়েছে মানিক্যহার মৌজায় জে এল নম্বর ৯২, প্লট নম্বর ৪৪০৪-এ প্রায় ০.২ একর জমির চরিত্র তাঁরা বেআইনিভাবে পরিবর্তন করেছেন এবং এই মর্মে একটি গণ স্বাক্ষর করা অভিযোগপত্র জমা পড়েছে। বেআইনিভাবে জমির চরিত্র পরিবর্তন করার জন্য আগামী সাত দিনের মধ্যে হুমায়ুন পত্নীকে উত্তর দিতে বলা হয়েছে। যথাযথ উত্তর না পেলে তাঁর বিরুদ্ধে ডব্লিউবিএলআর আইন ১৯৫৫ অনুযায়ী কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এই চিঠি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর বলেন, "শুধু আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে হবে না। বাকি যারা বেআইনিভাবে জমির চরিত্র পরিবর্তন করে বাড়ি তৈরি করেছেন বা অন্য স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।" তিনি অভিযোগ করেন, "তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে নতুন দল করার জন্য আমার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে।"