• বেআইনি অস্ত্র কারখানা, কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার
    আজকাল | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বড়সড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। এসটিএফ, বিহার পুলিশ এবং মধুসূদনপুর থানার যৌথ দল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিহারের ভাগলপুর জেলার মধুসূদনপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি সক্রিয় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানার হদিস পায়। এই অভিযানে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই কারাখানায় হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণে অস্ত্র এবং অস্ত্র তৈরি সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগেই শহর কলকাতায় ধরা পড়েছিল আগ্নেয়াস্ত্র-সহ একাধিক ব্যক্তি। সেই সূত্র ধরেই কলকাতা পুলিশের এই অভিযান। এবং মিলল সাফল্যও। বিহারের রহমতবাগ গ্রামের একটি বাড়িতে এই কারখানা চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। বাড়িটির মালিক মহম্মদ নাসির আনসারি। বাড়ির নীচ তলায় একটি সুতো কাটার কল (স্পিনিং মিল) চালাতেন তিনি। অভিযোগ, সেই কারখানাকে সামনে রেখে আড়ালে চলছিল দেশী আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কাজ।

    মঙ্গলবারের অভিযানে মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন মালিক-সহ এবং চার জন দক্ষ অস্ত্র প্রস্তুতকারক। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্রটি গোপনে অস্ত্র তৈরি করে কলকাতা-সহ বিভিন্ন জায়গায় আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করছিল। তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও যন্ত্রাংশ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—

    পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া যন্ত্রপাতি থেকে স্পষ্ট যে এটি একটি সুসংগঠিত ও পেশাদার অস্ত্র নির্মাণকেন্দ্র ছিল। আধা-সমাপ্ত পিস্তলগুলিকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে বাজারে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

    যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরা হলেন, ভাগলপুরের বাসিন্দা মহম্মদ নাজির (২১), মহম্মদ শাদাব আলি ওরফে সাদ্দাম (৩২), মহম্মদ আসলাম ওরফে টিংকু (৪১), মহম্মদ সামশের আলম ওরফে ছোটু (৩৬), মহম্মদ শাহনওয়াজ (২৫)। নাজির বাদে বাকি চার জন মুঙ্গেরের বাসিন্দা। ধৃতদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য ধারায় মামলা রুজু করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত আছে কি না এবং অস্ত্রগুলি কোথায় সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এই অভিযানে একাধিক রাজ্যের পুলিশের সমন্বিত পদক্ষেপে বড় ধরনের অবৈধ অস্ত্র চক্র ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। লালবাজার পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার ধৃতদের আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হবে আগামীতে তদন্তের আরও অগ্রগতি এবং তথ্য উদ্ধারের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
  • Link to this news (আজকাল)