মৌমিতা চক্রবর্তী: সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে এহার প্রতীক উর রহমান প্রসঙ্গ। দলের অবস্থান কি? জানতে চান আলিপুরদুয়ার-সহ দুই জেলার নেতৃত্ব। আগামীকাল, শুক্রবার সিপিএমের সর্বভারতীয় সম্পাদকের উপস্থিতিতে বৈঠক।
দুয়ারে বিধানসভা ভোট। ছাব্বিশের প্রস্তুতির মাঝে সিপিএমের অন্দরে অসন্তোষের মেঘ। দলের একেবারে শীর্ষ নেতৃত্ব, বলা ভাল সিপিএমের সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তরুণ তুর্কি নেতা প্রতীক উর রহমান। বেজায় অস্বস্তিতে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।
এদিকে শুরু হয়ে দিয়েছে সিপিএম রাজ্য কমিটির বৈঠক। সূ্ত্রের খবর, বৈঠকে প্রতীক নয়, প্রতীকই(সিম্বল) বেশ গুরুত্ব পেল। আসন্ন বিধানসভা ভোটে দুশোরও বেশি আসনে প্রার্থী দিতে চলেছে সিপিএম। আন্দোলন আরও ঝাঁঝালো করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
এদিকে জি ২৪ ঘন্টাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে মহম্মদ সেলিমের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন প্রতীক উর। সেলিম সাহেব গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দল চালানোর বদলে নিজের একটি ছোট বলয় তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, 'মহম্মদ সেলিম আজ মাত্র কয়েকজনকে নিয়ে দল চালাচ্ছেন।' এই ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ রাজনীতির ফলে দলের নিচুতলার এবং পুরনো কর্মীরা ব্রাত্য হয়ে পড়ছেন বলে মনে করছেন রাজনীতির কারবারিরা।
প্রতিক উরের সাফ কথা, 'মহম্মদ সেলিম হুমায়ুন কবীরের মতো নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার সময় পান, অথচ নিজের দলের নেতাদের ফোন করার বা কথা বলার সময় তাঁর হয় না।' তাঁর মতে, এই আচরণ অত্যন্ত 'ঔদ্ধত্যপূর্ণ'। লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে বাম প্রার্থীর অভিযোগ, যখন কোনও কাজের কৃতিত্ব নেওয়ার সময় আসে, তখন সেলিম সামনে থাকেন। কিন্তু দল যখন বিপদে পড়ে বা কোনো জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তখন তিনি দায় এড়িয়ে বলেন— "সবই দল জানে।" নেতার এই দ্বিচারিতা নিচুতলার কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে বলে প্ মনে করেন তিনি।
তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল প্রতিকুর রহমানের গলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা। যেখানে সিপিএম বরাবরই তৃণমূলের কট্টর বিরোধী, সেখানে প্রতিকুর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করে নজির গড়েছেন।" শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং রাজ্যের দাবি আদায়ের লড়াইয়ে (SIR লড়াই) সিপিএম যে তৃণমূলের চেয়ে কয়েক যোজন পিছিয়ে আছে, তাও অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, 'লড়াইতে তৃণমূলের থেকে সিপিএম অনেক পিছিয়ে রয়েছে।'