সাবধানে লেখো, ধীরে চলো, কিন্তু গভীরে যাও: সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
এই সময় | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, সাহিত্যিক
বাংলা সাহিত্য জগতে একটা বিরাট ফাঁক তৈরি হলো। অনেক বছর ধরে তিনি এই বঙ্গের পাঠক-পাঠিকাকে সমৃদ্ধ করে এসেছে। বহু ধরনের লেখা, কাহিনি, চিন্তাভাবনা, নাটকীয়তার নানা উপাদান দিয়ে তিনি সকলকে সমৃদ্ধ করতেন। একটা যুগকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিলেন তিনি। হঠাৎ, এ ভাবে চলে গেলেন মানুষটা?
একটা শূন্যতা যে তৈরি হলো এ কথা অস্বীকার করা যায় না। ইতিমধ্যেই তো অনেকেই চলে গিয়েছেন। বাংলা সাহিত্য ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে যে বৈচিত্র, যে আনন্দ সাহিত্যের মাধ্যমে তিনি বিতরণ করতেন, তা ভোলার নয়।
আমায় খুবই স্নেহ করতেন মানুষটা। একটা সময়ে প্রতিদিন সকালে ফোন করতেন। তাঁর কথোপকথন শুরুর একটা স্টাইল ছিল। বলতেন, ‘আমি কি মহামান্য সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলছি?’ সেই সময়ে আমায় কিছু উপদেশও দিতেন। লেখাকে খেজুর রসের সঙ্গে তুলনা করতেন। বলতেন, জিরেন কাঠের রস হলো সবচেয়ে ভালো। তাই গুচ্ছের লেখা লিখলে রস পাতলা হয়ে যায়। তাই ধীরে ধীরে লিখবে। পরবর্তীকালে আমার যাঁরা শুভানুধ্যায়ী, তাঁরাও এ কথা বলেছেন বহুবার।
একটা সময়ে পরে তাঁর লেখার সংখ্যা কমেছে। আসলে একটা বিষয় হলো একজন লেখক কতটুকু দিতে পারবেন, সেটা নির্ভর করে তাঁর ভিতরে কী আছে তার উপর। যেমন আমি যদি গোরুর সঙ্গে তুলনা করেই উদাহরণ দিই। ধরা যাক, একটা গোরু দিনে এক শের দুধ দেয়। তার থেকে যদি রোজ পাঁচ শের কেউ আশা করে, সেটা তো সম্ভব নয়। তাই আমায় বলতেন, ‘সাবধানে লেখো, ধীরে চলো, কিন্তু গভীরে যাও’। শেষের দিকে ওঁর সঙ্গে আমার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।
সাহিত্য জগতে তোপ দেগেছিলেন প্রথম লেখা থেকেই। এমন সাফল্য দিয়ে এই জগতে এন্ট্রি খুব কমই হয়। গত বছর বইমেলায় শেষ দেখা। ভেবেছিলাম এ বারও হয়তো যেতে পারবেন। কিন্তু যাঁর যখন দিন ফুরোবে, তখন তো চলে যেতেই হবে।