‘যে দিন প্রথম দেখা হয়...’, শংকরের প্রয়াণে মনখারাপ সৃজিতের, অজানা গল্প লিখলেন পরিচালক
এই সময় | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সৃজিত মুখোপাধ্যায় (পরিচালক)
কোনও কোনও দিন মন খুব অসাড় হয়ে যায়। অদ্ভুত একটা যন্রণা হয়। মনে হয়, এই দিনটা তো না এলেও পারতো। ২০ ফেব্রুয়ারি তেমন একটা দিন। শংকর চলে গেলেন।অনেক কথা মনে পড়ছে। অত্যন্ত মিশুকে মানুষ ছিলেন । গল্প করতে ভালোবাসতেন ভীষণ। ওঁর সেন্স অফ হিউমার ছিল প্রখর। 'শাজাহান রিজেন্সি' তৈরির আগে বহুবার আলোচনা করেছি। আমি আমার ভাবনা শেয়ার করেছি। উনি সেটা বিশ্লেষণ করেছেন। নানা পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে শুধুই কাজের কথা কখনও হয়নি। নানা বিষয় নিয়ে গল্প করতাম। ওঁর সঙ্গে কথা বলতে বসলে, কী ভাবে যেন সময় কেটে যেত।
যে দিন প্রথম দেখা হয় ওঁর সঙ্গে, আমি জানিয়েছিলাম 'চৌরঙ্গী' উপন্যাসটা পড়েই অদ্ভুত ভাবে আমি শহরের প্রেমে পড়ি। কলকাতাকে নতুন করে আবিষ্কার করি। আমার কাছে যা কলকাতা, তা-ই 'চৌরঙ্গী' উপন্যাস। প্রতিটি চরিত্র আমার মনে থেকে যাবে আজীবন। অনেকের কাছেই 'চৌরঙ্গী' মানে সাদা-কালো ছবি।
আমি যখন 'শাজাহান রিজেন্সি' বানানোর কথা ঘোষণা করলাম, অনেকেই বলেছিলেন এটা তো রিমেক। কিন্তু আমি সেই ধারণা মুছে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাঙালি পাঠকের কাছে 'চৌরঙ্গী' মানে প্রথম পড়া সেই উপন্যাসটা। কবীর সুমনের গানের লাইন ধরে বলতে গেলে, 'এই শহর জানে আমার প্রথম সব কিছু।' 'চৌরঙ্গী' তেমনই একটি অনুভূতি। সেই অনুভূতির জায়গা থেকেই অনেক আড্ডা হতো, আমি অনেক কথা জানতে চাইতাম ওঁর কাছে।
'চৌরঙ্গী'র নায়ক যে আসলে কলকাতা, স্যাটা বোস নন, সেটা নিয়েও বহু আলোচনা হয়েছে তাঁর সঙ্গে। আমি উপন্যাস অনুসরণ করেই ছবিটা বানিয়েছিলাম। খুব খুশি হয়েছিলেন তিনি।আচমক তাঁর চলে যাওয়ার খবরে, মন ভালো নেই একদম। অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। অনেক আলোচনা মনে পড়ছে। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। তবে উনি ওঁর সৃষ্টির মধ্যে থেকে যাবেন।