• ‘বইয়ের দাম ঠিক করতেও পরামর্শ দিতেন..’, শংকরের জীবনাবসানে স্মৃতি-তর্পণ অপুর
    এই সময় | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অপু দে (অন্যতম কর্ণধার, দে'জ পাবলিশার্স)

    আমাদের সঙ্গে শংকরের সম্পর্ক ১৯৭৬ সাল থেকে। আমাদের প্রকাশনী সংস্থা থেকে শংকরের প্রথম প্রকাশিত বই 'স্বর্গ মর্ত্য পাতাল'। তাঁর তিনটি উপন্যাস 'সীমাবদ্ধ', 'আশা-আকাঙ্খা' এবং জন অরণ্য' নিয়ে তৈরি হয় সেই বই। এই তিনটি লেখা ছিল বিপুল জনপ্রিয়। তিনটে উপন্যাস যখন একটি বইয়ে সাজালাম, পাঠকের বিপুল সাড়া পেয়েছিলাম।

    আমার বাবা সুধাংশ শেখর দে-র সঙ্গে শংকরের একটা অদ্ভুত সম্পর্ক ছিল। বাবার সঙ্গে ওঁর দীর্ঘ দিনের যোগাযোগ। বই হওয়ার আগে থেকেই বাবা যেতেন ওঁর কাছে। বাবাকে নানা রকম পরামর্শও দিতেন তিনি। একটা বইকে কী ভাবে অনেক পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, দাম কেমন ধার্য করলে সমস্ত স্তরের পাঠক বই কিনতে পারেন, এমন নানা ভাবনার জোগান বাবাকে দিতেন তিনি।

    প্রত্যেক রোববার বাবা দেখতাম কোথাও একটা বেরোতেন। এক দিন জিজ্ঞেস করে জানলাম, বাবা দাদার কাছে যাচ্ছেন। আসলে বাবা কখনও মণিশংকরদা বা শংকরদা বলতেন। সব সময় দাদা বলে সম্বোধন করতেন। সেই সময় থেকেই বাবার সঙ্গে ওঁর যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, সেটা একেবারেই দাদা-ভাইয়ের মতো ব্যাপার। ওই ভালোবাসাটা শব্দে প্রকাশ করাটা বেশ মুশকিলের। বাবাকে কী ভাবে সামলাবো, বুঝতে পারছি না।

    এ বছর শারীরিক অসুস্থতার কারণে বইমেলায় আসতে পারেননি। গত বছর পর্যন্তও তিনি বইমেলায় এসেছিলেন। প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা আমাদের স্টলে থাকতেন। কোনও বিরক্তি ছাড়াই বইয়ে সই করে যেতেন দীর্ঘ সময় ধরে। বর্ষীয়ান সাহিত্যিক বইয়ে সই করছেন, সেই দৃশ্য একজন প্রকাশকের মনে যে অনুভূতির জন্ম দেয়, অবর্ণনীয়। তিনি ছিলেন একজন বটবৃক্ষের মতো। আমি তো অনেক কম বয়স থেকে ওঁঁকে দেখছি। আমার সঙ্গেও নানা স্মৃতি আছে। কখনও বকা খেয়েছি, কখনও সস্নেহে কাছে ডেকে নিয়েছেন। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের কাছে অপূরণীয় ক্ষতি।
  • Link to this news (এই সময়)