ভাষার গতিশীলতা, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা পাঠক হিসেবে মুগ্ধ করেছে আমায়: তিলোত্তমা মজুমদার
এই সময় | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
তিলোত্তমা মজুমদার, সাহিত্যিক
লেখার মধ্যে দিয়েই খুব স্বাভাবিক ভাবে তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। যখন থেকে সাহিত্য পাঠ শুরু করেছি, শংকরের লেখা পড়েছি। সেই অল্প বয়স থেকেই এমন একটা জগতে প্রবেশ করে গিয়েছিলাম যেখানে দুর্নীতি, প্রতিহিংসা, মিথ্যা, প্রতারণা মিশ্রিত অন্ধকার জগতের একটা দিক সম্বন্ধে জানার সুযোগ হয়েছিল। সেটা হয়তো আমার চিন্তাভাবনাকে অনেকটা পরিণত করে তুলতেও সাহায্য করেছিল।
তাঁর লেখা না পড়লে বাস্তবের এই কঠিন দিক সম্বন্ধে জানতেই পারতাম না। শংকরের লেখার মধ্যে যে বিষয়গুলো আমায় সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ঠ করেছে, তাঁর ভাষার গতিশীলতা, অসম্ভব ভালো পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা পাঠক হিসেবে মুগ্ধ করেছে আমায়।
তাঁর একাধিক লেখা নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন সত্যজিৎ রায়ের মতো পরিচালকেরা। যেগুলো মন ছুঁয়েছে সকলের। এ ছাড়া তাঁর রমণীয় উপন্যাসের তালিকাও কম নয়। ব্যক্তি হিসেবে তাঁর সঙ্গে আমার অনেক পরে পরিচয় হয়েছে, যখন আমি লেখালিখির জগতে এসেছি। তবে সারাক্ষণ হাসিখুশি থাকতেন মানুষটা। সরস গল্প করতেন।
সকলের সঙ্গেই সমান ব্যবহার করেছেন চিরকাল। কত মজার গল্প করেছেন। সদা হাস্যময় একজন মানুষ শংকর। তাঁর চলে যাওয়া বাংলার নক্ষত্রপতন বলা চলে। তাঁর যে রচনাগুলো রয়ে গেল, সে গুলোই বাংলা সাহিত্যের বড় সম্ভার।