আজকাল ওয়েবডেস্ক: কথায় আছে ‘ভগবান যখন দেয়, উজাড় করে দেয়’। এই কথাটাই এবার সত্যি হল মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়া থানার অন্তর্গত জামালপুরের বাসিন্দা রিম্পা মণ্ডল এবং বিশ্বজিৎ মুখার্জির জীবনে। আর বিরল এক ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা জেলা। একই সঙ্গে চারটি বাচ্চার জন্ম দিলেন রিম্পা। এর মধ্যে দু’টি ছেলে এবং দু’টি মেয়ে। বহরমপুরের বেসরকারি হাসপাতালে জন্ম হলেও জন্মের পর মা ও বাচ্চাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন মা এবং সন্তানেরা।
রিম্পার স্বামী বিশ্বজিৎ পেশায় একজন পূজারী। বছর তিনেক আগে রিম্পার সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। এর আগেও রিম্পা একবার সন্তানসম্ভবা হয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাঁর প্রথম সন্তান গর্ভস্থ অবস্থাতেই মারা যায়। এরপর দ্বিতীয়বার সে সন্তানসম্ভবা হলে বহরমপুরের লালদিঘির কাছে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে তাঁর সিজারের ব্যবস্থা করেন পরিবারের লোকজন।
ডা. অভিরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোলানাথ আইচের তত্ত্বাবধানে সিজার হয় রিম্পার। সেখানেই একসঙ্গে চারটি সন্তানের জন্ম দেন তিনি। তবে গর্ভাবস্থায় ইউএসজি করার সময় ডাক্তাররা তাঁর গর্ভে তিনটি সন্তানের অস্তিত্ব লক্ষ্য করেছিলেন। কিন্তু সিজার হওয়ার পর ডাক্তাররা দেখেন তিনটি নয়, চারটি সন্তান রয়েছে। একই সঙ্গে চারটি বাচ্চার জন্ম দেওয়ার পর মা এবং বাচ্চাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল না থাকায় তাদেরকে দ্রুত মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে মা এবং বাচ্চারা মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
রিম্পার স্বামী বিশ্বজিৎ মুখার্জি বলেন, “বছর তিনেক আগে রিম্পার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। এর আগেও রিম্পা একবার গর্ভবতী হয়েছিল। কিন্তু সেই বার বাচ্চা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এরপর দ্বিতীয়বারের জন্য যখন রিম্পা গর্ভবতী হয়, তখন ইউএসজিতে তাঁর গর্ভে তিনটি সন্তান দেখতে পেয়েছিলেন ডাক্তাররা।” তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি জটিল হওয়ায় আমরা জামালপুরের কোনও নার্সিংহোমে নয়, বহরমপুরের লালদিঘির ধারে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে তাঁর সিজারের ব্যবস্থা করি। সেখানে সিজার হওয়ার পর ডাক্তাররা দেখতে পান রিম্পার গর্ভে তিনটি নয়, চারটি সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে দু’টি ছেলে এবং দু’টি মেয়ে।” বিশ্বজিৎ বলেন, “সন্তান হল ভগবানের আশীর্বাদ। কিন্তু আমরা গরীব মানুষ। একসঙ্গে চারটি সন্তানের লালন পালন কীভাবে করব সে নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছি।”