২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে বাংলায় ৩.৯৯ লক্ষ কোটি ঋণ নির্ধারণ নাবার্ডের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের জন্য পশ্চিমবঙ্গে মোট ৩.৯৯ লক্ষ কোটি টাকার অগ্রাধিকার খাতে ঋণের সম্ভাবনা নির্ধারণ করল ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট। সংস্থার পশ্চিমবঙ্গ আঞ্চলিক দপ্তরের উদ্যোগে ধন ধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত রাজ্য ঋণ বিষয়ক সেমিনারে এই ঘোষণা করেন চিফ জেনারেল ম্যানেজার শ্রী পি.কে. ভারদ্বাজ। গত অর্থবর্ষের তুলনায় সম্ভাব্য ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫ শতাংশ বেশি বলে জানানো হয়েছে।
এই সেমিনারেই প্রকাশিত হয় ২০২৬–২৭ সালের জন্য রাজ্য ফোকাস পত্র। জেলা ভিত্তিক সম্ভাবনামূলক পরিকল্পনার সমন্বয়ে প্রস্তুত এই নথি ব্যাঙ্ক, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলির সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। আগামী অর্থবর্ষে বার্ষিক ঋণ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশ দেবে বলে আয়োজকদের দাবি।
‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য সামনে রেখে সেমিনারে রাজ্যের ৯.১ কোটি মানুষের জন্য জলবায়ু সহনশীল কৃষি, আধুনিক গ্রামীণ পরিকাঠামো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বক্তারা জানান, সুষ্ঠু ও কাঠামোবদ্ধ ঋণ ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামীণ সমৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক গতি আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব শ্রী প্রভাত কুমার মিশ্র, কৃষি দপ্তরের প্রধান সচিব শ্রী ওংকার সিং মীনা এবং রাজ্য স্তরের ব্যাঙ্কারদের কমিটির কনভেনর শ্রী বলবীর সিং-সহ বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। শ্রী প্রভাত কুমার মিশ্র বলেন, রাজ্য সরকার, নাবার্ড এবং ব্যাঙ্কগুলির সমষ্টিগত উদ্যোগই টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি। তিনি রাজ্যের বিভিন্ন কৃষি ও আবহাওয়াগত অঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বিশেষ করে মৎস্য খাতে উচ্চ আয়ের সুযোগের ওপর জোর দেন।
নাবার্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট সম্ভাব্য ৩.৯৯ লক্ষ কোটির মধ্যে কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য অংশ বরাদ্দের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প, গ্রামীণ পরিকাঠামো ও অন্যান্য অগ্রাধিকার ক্ষেত্রেও ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই সম্ভাব্য ঋণ নির্ধারণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে অর্থনৈতিক মহল। তাঁদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন হলে আগামী অর্থবর্ষে কৃষি ও গ্রামীণ শিল্পে নতুন গতি আসতে পারে।