প্রয়াত প্রাক্তন রেল প্রতিমন্ত্রী মুকুল রায়। বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। নিউ টাউনের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন প্রবীণ এই রাজনৈতিক নেতা। রবিবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে রাজনৈতিক মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মুকুল রায়ের মৃত্যুর খবর জানার পরেই হাসপাতালের সামনে এসে ভিড় করেন তাঁর অনুগামীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন অনেকেই।
এক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন মুকুল রায়। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠিত হওয়ার পরে দলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবেও নির্বাচিত হন তিনি। রেল প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন মুকুল রায়। এরই পাশাপাশি কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
বর্ণময় তাঁর রাজনৈতিক জীবন। এক সময়ে তাঁকে ‘তৃণমূলের রাজনীতির চাণক্য’ হিসেবে অভিহিত করা হতো। তবে, তাঁকে নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি।
২০১৭ সালে, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল রায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু নির্বাচনের পর তিনি পুনরায় পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে যান। এর পরেই দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে সরব হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি মুকুল রায়।
বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন মুকুল রায়। অসুস্থতার পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি তাঁকে।
মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায় জানিয়েছেন, রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ প্রয়াত হয়েছেন তাঁর বাবা।
হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর দেহ। সোমবারই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে হবে পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে।