সুপার এইটের প্রথম ম্যাচেই থেমে গেল ভারতের অশ্বমেধের ঘোড়া
আজকাল | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: আহমেদাবাদে থামল ভারতের অশ্বমেধের ঘোড়া। ৭৬ রানে লজ্জার হার মানতে হল গতবারের চ্যাম্পিয়নদের।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুদ্দাড়িয়ে এগোচ্ছিল ভারতীয় ব্রিগেড। তার চলার পথে যাকে সামনে পেয়েছে, উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু সুপার এইটের প্রথম ম্যাচেই মুখ থুবড়ে পড়ল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে গলা ফাটাচ্ছেন ক্রিকেট সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মহল। এদিন জিতলে টানা ১৩টি ম্যাচ জিতত ভারত। কিন্তু প্রোটিয়া ব্রিগেডের বোলিং আক্রমণের সামনে হারাকিরি করে বসলেন অভিষেক-ঈশান-রিঙ্কুরা। তাঁরা এলেন আর গেলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৭ রান তাড়া করতে নেমে ভারত থেমে গেল ১১১ রান। ঈশান কিষান খাতা না খুলেই ফিরলেন। টানা তিন ম্যাচ শূন্য করার পরে এদিন অভিষেক শর্মার ব্যাট থেকে এল মাত্র ১৫ রান। তিলক ভার্মা এক রান করে ফিরে গেলেন। ভাঙনের মুখে সূর্যকুমার যাদব ভারতকে জেতাতে পারতেন। সেই তিনিও ১৮ করে আউট হলেন।
ওয়াশিংটন সুন্দর, হার্দিক পাণ্ডিয়া, রিঙ্কু সিংরা আত্মঘাতী শট খেলে ভারতকে লজ্জায় ফেললেন। যে দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছে, সেই দলের অসহায় আত্মসমর্পণ দেখতে কার ভাল লাগে! গতবার এই দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল রোহিত শর্মার ভারত। সেই প্রোটিয়া ব্রিগেড থামিয়ে দিল গতবারের চ্যাম্পিয়ন দলকে।
তবে টুর্নামেন্টের এখনও ঢের বাকি। দিল্লি এখনও বহুদূর। এই হার ভারতের জন্য ওয়েক আপ কল বলা যেতে পারে। সুপার এইটের বাকি দুটি ম্যাচ জিম্বাবোয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। সেই দুটো ম্যাচ হয়ে গেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিনের হারের পরে রান রেটেও ভারত কিন্তু অনেকটাই পিছিয়ে পড়ল।
ম্যাচ হেরে ফিরে আসার ক্ষমতা রয়েছে এই ভারতের। পরের ম্যাচগুলোয় কীভাবে ভারত ঘুরে দাঁড়ায় সেটাই দেখার।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে দুরন্ত বুমরাহ। ৪ ওভারে ১৫ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন।
দক্ষিণ আফ্রিকাও একসময়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু ডেভিড মিলার (৬৩), ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (৪৫) ও স্টাবস রুখে দাঁড়ানোয় দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ ওভারে করে ৭ উইকেটে ১৮৭ রান।
এই রান ভারতের কাছে পাহাড়-সম হয়ে ধরা দিয়েছিল। ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে শিবম দুবে কেবল লড়লেন। ৪২ রান করলেন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ তো চলে গিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার সাজঘরে। বাকিদের অয়ারাম-গয়ারাম ব্যাটিং দেখার পরে গৌতম গম্ভীর যদি ছেলেদের ভর্ৎসনা করেন, তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।