এই সময়, পানিহাটি: রবিবার পানিহাটিতে বিজেপির (Bjp) নিহত কার্যকর্তাদের স্মরণে একটি সভা করলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সভা থেকে তিনি দলীয় কর্মীদের জনসংযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘রাস্তায় বেরিয়ে মানুষের কাছ থেকে পাঁচ-দশ টাকা করে চাঁদা সংগ্রহ করুন। সেই টাকা স্ট্রিট কর্নারে ব্যবহার করতে হবে।’ এ দিনের অনুষ্ঠানে নিজের পকেট থেকে হাজার টাকা চাঁদা (Donation) দিয়ে এই কর্মসূচির সূচনাও করেন তিনি। বাম দলগুলির কায়দায় চাঁদা তুলে দেওয়াল লিখন ও ব্যানার পোস্টার ছাপানোর খরচ জোগাড় করতে দলের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন শমীক।
ভারতের সবচেয়ে ধনী রাজনৈতিক দল বিজেপি। প্রতিটি নির্বাচনে কয়েকশো কোটি টাকা খরচ করে তারা প্রচারের জন্য। এই রাজ্যেও নির্বাচনী প্রচারে গেরুয়া বাহিনীর (Safforn Party) প্রতিপত্তি দেখেছে পশ্চিমবঙ্গবাসী। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্তরে আসা টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে উঠেছে বিজেপির অভ্যন্তরে। দলের বেশ কিছু নেতার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা প্রাক্তন রাজ্যপাল (Governor) তথাগত রায় দলীয় নেতাদের মধ্যে ‘কামিনী কাঞ্চন যোগ’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন। এই আবহেই শমীকের নতুন এই কর্মসূচি বিজেপির অভ্যন্তরেই শোরগোল ফেলেছে।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে ইতিমধ্যে দেওয়াল লিখন শুরু করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্তর থেকে আসা টাকা দিয়েই দেওয়াল লিখন চলছে বলে জানা গিয়েছে দলীয় সূত্রে। ওই টাকার সঠিক ব্যবহার নিয়েও দলের অভ্যন্তরে প্রশ্ন রয়েছে। বিজেপির বহু আদি নেতা দাবি করেন, ‘দল যখন ক্ষমতার ধারে কাছে ছিল না তখন নিজেদের পকেট থেকে ও রাস্তা থেকে চাঁদা সংগ্রহ করেই আমরা প্রচার করেছি। তখন এই জমিদারি সংস্কৃতি ছিল না। এখন তো বহু নেতাই খোলামকুচির মত টাকা ওড়ান নিজেদের এলাকায় প্রচারের জন্য।’
বিজেপির কলকাতা উত্তর শহরতলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, ‘রাজ্য সভাপতি রাস্তায় নেমে চাঁদা সংগ্রহ করে জনসংযোগ ও প্রচারের কথা বলে গিয়েছেন। আমরা আজ থেকে এই কর্মসূচি শুরু করে দিয়েছি।’ কিন্তু দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠছে এই কর্মসূচি কি বিজেপির এই জমিদারি সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে পারবে?