• ‘৬০০ দিন হাসপাতালে...’, বাবার প্রয়াণে শোকার্ত মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু, এক মাস আগের পোস্টেই অশনি সঙ্কেত
    এই সময় | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • তাঁর তুখোড় রাজনৈতিক মগজাস্ত্রের ধারভারের কারণে তুলনা টানা হতো চাণক্যের সঙ্গে। তাঁকে সমীহ করতেন বিরোধীরাও। কিন্তু জীবনের শেষ কয়েক বছরে রাজনীতির প্যাঁচ-পয়জ়ার তো দূর, নিজের রাজনৈতিক পরিচয় মনে করতে বেগ পেতে হতো তাঁকে। ৬০০ দিনের অসম যুদ্ধ শেষে পরাজিত একদা তৃণমূলের 'চাণক্য' বলে পরিচিত মুকুল রায় (Mukul Roy)। রবিবার গভীর রাতে শহরের বেসরকারি এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর (Mukul Roy Demise)। পরিবারের তরফে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ছেলে শুভ্রাংশু রায় (Shubhrangshu Roy)।

    একাধিক শারীরিক সমস্যা ও বাধর্ক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তৃণমূল জন্মলগ্নের গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক মুকুল রায়। মুকুলপুত্র শুভ্রাংশু জানান, দেড় বছর ধরে হাসপাতালেই ছিলেন তিনি। ক্রমশই শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। রবিবার রাতে সব চেষ্টার অবসান ঘটে। শুভ্রাংশু বলেন,‘রাত একটা নাগাদ ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। সেখান থেকে আর ফেরানো যায়নি। তিনটের সময় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে বাবা। খুব কষ্ট পাচ্ছিলেন। শেষ যুদ্ধটা আর জিততে পারলেন না।’ মুকুলের পুত্র জানিয়েছেন, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর জন্মভিটে কাঁচরাপাড়াতেই হবে তাঁর শেষকৃত্য। তার আগে অবশ্যই দলের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলে জানিয়েছেন শুভ্রাংশু।

    শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের এক সময়ের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মুকুল রায় যে ভালো নেই, তা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল পুত্র শুভ্রাংশুর একমাস আগের পোস্টে। গত ২৩ জানুয়ারি ছিল মুকুল রায়ের জন্মদিন। সেই দিন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মুকুল পুত্র লিখেছিলেন, ‘Many Many Happy Returns Of The Day। আর লিখতে পারছি না, কারণ তুমি যে অসহনীয় কষ্ট ভোগ করছ, তা আর চোখে দেখা যায় না।’ দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শেষে হার মানলেন মুকুল রায়।

    কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক এবং দুঁদে রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে রাজনৈতিক মহলে। প্রয়াত নেতার দীর্ঘদিনের সতীর্থ কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovondeb Chatterjee)। সতীর্থের প্রয়াণের খবরে শোকার্ত নেতার স্মৃতিচারণে উঠে এল পুরোনো কথা। তিনি বলেন, ‘মুকুল রায় আমার দীর্ঘদিনের সহকর্মী। তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন একজন পার্টি লিডার ছিলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বহু আন্দোলনে একসঙ্গে পা মিলিয়েছি। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম থেকে উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণবঙ্গের বহু লড়াইতে এক সঙ্গে কাজ করেছি। গত কয়েকবছরে খুব অসুস্থ ছিলেন। তাঁর ছেলে তাঁকে সুস্থ করার অনেক চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হলো না। একটা দিন হয়তো এমন আসে। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।’

    বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম শক্তিশালী চরিত্র মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন CPM-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীও (Sujan Chakraborty)। তিনি বলেন,‘গত দেড়-দু’বছর ধরে সাংঘাতিক অসুস্থ ছিলেন। এতটা কষ্টে ছিলেন যে, শেষ কয়েকটা বছর ওঁকে দেখে খারাপ লাগত। রাজনীতিতে দলবদলের ধারার মূল লোক হিসেবে সকলের স্মৃতিতে থাকবে মুকুল রায়ের নাম। যে কোনও মৃত্যুই দুঃখের। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।’

    শিবির বদলে ২০১৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগদান করেন মুকুল রায়। অল্প সময়ের জন্য হলেও তাঁকে রাজনৈতিক ময়দানে কাছ থেকে দেখেছেন BJP নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় (Locket Chatterjee)। তিনি বলেন, ‘এত বড় মাপের মানুষের চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কঠিন। মুকুলদার সঙ্গে কাজ করেছি। অনেক কিছু শিখেছি। শেষ জীবনে তাঁকে দেখে কষ্ট হতো। মন খারাপ লাগতো। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি তাঁর চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছি না। প্রবীণ এক রাজনীতিবিদকে আমরা হারালাম।’

  • Link to this news (এই সময়)