• প্রতীক উর কেন লিখলেন ‘আপাতত এইটুকু’?
    আজকাল | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দলবদলের পর থেকেই রাজনৈতিক ঝড়ের মুখে ডায়মন্ড হারবারের তরুণ নেতা প্রতীক উর রহমান। সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে যেমন রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ‘রেনেগেড’, ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে একাংশ বাম সমর্থকদের তরফে। এই আবহেই হঠাৎ ফেসবুকে পরিবারের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখলেন— “আপাতত এইটুকু।”

    শনিবার আমতলায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দেন প্রতীক উর রহমান। দলবদলের পরপরই সিপিএম তাঁকে বহিষ্কার করে। এরপর থেকেই রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি।

    দলীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে আগেই সিপিএমের প্রাথমিক সদস্যপদ-সহ জেলা ও রাজ্য কমিটির দায়িত্ব ছাড়ার চিঠি পাঠিয়েছিলেন প্রতীক উর। তখনই জল্পনা শুরু হয়েছিল তাঁর তৃণমূলে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে। ছাব্বিশের ভোটের আগে এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক মহলে ‘কৌশলগত চাল’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    তবে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও শুরু হয় জল্পনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি ওঠে, প্রতীকের দলবদলে নাকি অখুশি তাঁর স্ত্রী শিরিন সুলতানা— যিনি নিজেও ছাত্রজীবন থেকে বাম রাজনীতির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এমনকি সংসারে অশান্তি চরমে উঠেছে বলেও পোস্ট ছড়ায়। যদিও শিরিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এসবই ভিত্তিহীন রটনা। তাঁর কথায়, “ইচ্ছে করে এসব ছড়ানো হচ্ছে। যারা করছে, তারা আমাদের ভালো চায় না।”

    এই প্রেক্ষাপটেই রবিবার রাতে প্রতীক উর রহমান নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, স্ত্রী ও ছোট কন্যাকে পাশে নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি খবরের কাটিং হাতে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। ক্যাপশনে মাত্র তিনটি শব্দ— “আপাতত এইটুকু।”

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সংক্ষিপ্ত বার্তার মধ্যেই একাধিক স্তরের ইঙ্গিত রয়েছে। প্রথমত, পরিবার তাঁর পাশে আছে— এই বার্তা স্পষ্ট করতে চেয়েছেন তিনি। দ্বিতীয়ত, লাগাতার আক্রমণের মুখে ব্যক্তিগত পরিসরকে সামনে এনে তিনি যেন বলতে চেয়েছেন, রাজনৈতিক মতান্তর মানেই ব্যক্তিগত ভাঙন নয়।

    প্রতীক ও শিরিনের পরিচয় কলেজ জীবন থেকেই। এসএফআই রাজনীতির সূত্রে একসঙ্গে আন্দোলন, মিছিল, সভা— সেই পথ ধরেই সম্পর্কের গভীরতা। পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। সংসারের দায়িত্ব সামলিয়েও প্রতীক ‘হোলটাইমার’ হিসেবে রাজনীতিতে সময় দিয়েছেন। শিরিনও নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন।

    তাই দলবদলের পর তাঁদের দাম্পত্যে ফাটল ধরেছে— এমন দাবি যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রচার, সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন প্রতীক উর? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, তাঁর পোস্ট আসলে এক নীরব জবাব— সমালোচকদের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সমর্থকদের আশ্বস্ত করতে।

    ঝড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে পরিবারকে সামনে আনা— তা কি কৌশল, না ব্যক্তিগত আবেগ? আপাতত উত্তর খোলা থাকলেও, প্রতীকের ফেসবুক বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

     
  • Link to this news (আজকাল)