আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুকুল রায়ের জীবনাবসান। বঙ্গ রাজনীতিতে বর্ণময় এক রাজনৈতিক চরিত্রের সমাপ্তি। একদা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করলেন দলের বর্তমান সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্য়ানার্জি।
তৃণমূলের সংগঠন ও বাংলার রাজনীতিতে মুকুল রায়ের ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে অভিষেকের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে। এক্স-বার্তায় অভিষেক ব্যানার্জি লিখেছেন, "মুকুল রায়ের মৃত্যুতে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক যুগের অবসান ঘটল। তিনি ছিলেন বিশাল অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন প্রবীণ নেতা। তাঁর অবদান রাজ্যের জনসাধারণ ও রাজনৈতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় গঠনে সহায়তা করেছিল। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা স্তম্ভ হিসেবে, তিনি গঠনমূলক বছরগুলিতে সংগঠনের সম্প্রসারণ ও সুসংহতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জনজীবনের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হবে।"
শেষে অভিষেক লিখেছেন, "আমি তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং ভক্তদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। তাঁর আত্মার চির শান্তি কামনা করি।"
সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মুকুল রায়। শুরু থেকেই দলের মমতা ব্যানার্জির অতি আস্থাভাজন নেতা ছিলেন তিনি। মমতা'কে মুকুল সব সময়েই 'দিদি' বলে সম্বোধন করতেন। পরবর্তীতে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের 'সেকেন্ড ইন কমান্ড' হয়েছিলেন তিনি। সংগঠন ছিল কার্যত তাঁর হাতেই। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, নেতাই আন্দোলনই হোক বা সর্বভারতীয় কোনও কর্মসূচি, তৃণমূলের অন্যতম মুখ ছিলেন মুকুল রায়।
পরে অবশ্যে মতবিরোধের জেরে ২০২৭ সালে দল ছাড়েন মুকুল। যোগ দেন বিজেপিতে। কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা আসনে জিতে বিধায়র হন তিনি। তবে, একুশের বিধানসভা ভোটের পরই পদ্ম ফুল ছেড়ে ফের তিনি জোড়া-ফুলে যোগ দেন। প্রশ্ন ওঠে তাঁর বিধায়ক পদ নিয়ে। রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি শেষে আদালতে মামলা গড়ায়। তবে, সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে। ফলে এখনও বিধায়ক পদেই ছিলেন তিনি।
মুকুলের রাজনৈতিক জীবন:
ছাত্র জীবন থেকেই যুব কংগ্রেস নেতা।পরবর্তীতে কংগ্রেস নেতা।১৯৯৮ সালে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গেই তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা।২০০১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জগদ্দল বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী, তবে পরাজিত হন।২০০৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভার সদস্য মনোনীত হন।২০০৯-২০১২ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা।জাহাজ ও রেল প্রতিমন্ত্রী।২০১৭ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান।২০২১ সালে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী।