অয়ন ঘোষাল ও অয়ন শর্মা: প্রয়াত মুকুল রায়। রবিবার গভীর রাতে কলকাতার বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। গতকাল রাত ২ টো ৩৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত উপসর্গ-সহ একাধিক জটিল অসুখে ভুগছিলেন। হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এরপরই রবিবার গভীর রাতে তাঁর কার্ডিয়াক ফেলিওর হয়।
কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক ছিলেন মুকুল রায়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ৬০০ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। গতকাল থেকে অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়। তারপর গভীর রাতে ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। হৃদরোগের আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন বর্ষীয়ান রাজনীতিক মুকুল রায়। ছেলে শুভ্রাংশু রায় জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে দেহ নিয়ে যাওয়া হবে হালিশহরে। বাড়িতে কিছুক্ষণের জন্য দেহ রাখা হবে। তারপর হালিশহর শ্মশানে হবে এই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের শেষকৃত্য।
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন সময় থেকে তিনি পার্টিতে আসেন। তৃণমূলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর-ই দলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন মুকুল রায়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। দেশের প্রাক্তন রেলমন্ত্রীও ছিলেন মুকুল রায়। সামলেছেন রেল মন্ত্রকের দায়িত্বও। কিন্তু নারদা কেলেঙ্কারি উত্তরপর্বে তিনি তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগদান করেন মুকুল রায়। তবে সেই মেয়াদ ছিল কিছুদিনের জন্য।
দলবদলের পরে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়ে গত ২০২১ সালে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন মুকুল। জিতে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু জেতার কয়েক মাসের মধ্যে আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন মুকুল রায়। কিন্তু বিধায়কপদ থেকে ইস্তফা দেননি। ফলে তৃণমূলে যোগ দিলেও মুকুল খাতায়-কলমে 'বিজেপি বিধায়ক' হয়েই থেকে গিয়েছিলেন। তাঁকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যানও করা হয়েছিল।
মুকুল রায়ের ফের তৃণমূলে যোগদানের পরই দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে সরব হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়। বিধানসভার স্পিকার মুকুল রায়ের পদ খারিজ করতে অস্বীকার করায় মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্ট মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশ দিলেও সুপ্রিম কোর্ট মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে হাইকোর্টের দেওয়া বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। যার জেরে বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। এখনও কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক মুকুল রায়।
তবে শেষ কয়েক বছর ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরেই ছিলেন তিনি। বর্ষীয়ান রাজনীতিক মুকুল রায়ের মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গ ও জাতীয় রাজনীতিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।