• অবহেলায় অযত্নে ১০০ বছরের পুরোনো ঘড়ি, কবে ঘুরবে কাঁটা? অপেক্ষায় সিউড়িবাসী
    এই সময় | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সিউড়ির আকাশে এক সময় প্রতি ঘণ্টায় ভেসে আসত ‘ঢং ঢং’ আওয়াজ। সেই শব্দ শুনেই ঘুম ভাঙত সিউড়িবাসীর। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে রান্নাঘরের ব্যস্ততা—সবই চলত ওই ঘড়ির কাঁটা মেপে। কিন্তু আজ সেই শতাব্দী প্রাচীন ঘড়ি স্তব্ধ। দেখভালের অভাবে ঘড়িটি ভাঙাচোরা অবস্থায় ঠায় দাঁড়িয়ে আছে বীরভূম জেলা ট্রেজ়ারি বিল্ডিংয়ে। যদিও প্রশাসনের তরফে ওই এলাকায় নতুন ক্লক টাওয়ার বসানো হয়েছে। তবে, স্থানীয়রা সেই পুরোনো ঘড়ির শব্দই ফিরে পেতে চাইছেন।

    এই ঘড়ির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু পুরোনো ইতিহাস। ইতিহাসবিদ সুকুমার সিংহ জানান, উনিশ শতকের শুরুর দিকে হেতমপুরের রাজকুমার মহিমা নিরঞ্জন চক্রবর্তী তৎকালীন জেলা কালেক্টরকে এই ঘড়ি উপহার দিয়েছিলেন। ঘড়িটি আনা হয়েছিল লন্ডন থেকে। ১৯০২ থেকে ১৯০৪ সালের মধ্যে ঘড়িটি ট্রেজ়ারি বিল্ডিংয়ের মাথায় বসানো হয়। দশকের পর দশক ধরে এই ঘড়িই ছিল সিউড়ির সময়ের দিশারি...। কিন্তু, বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঘড়ির একাংশ কার্যত ভেঙে পড়েছে।

    শহরের প্রবীণদের স্মৃতিতে এই ঘড়ি আজও উজ্জ্বল। এর আগে ১৯৭০ সালে বজ্রপাতে ঘড়িটি একবার বিকল হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পরে ১৯৯৫ সালে মেকানিক রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী সেটিকে আবার সচল করেন। ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনিই এই ঘড়ির দেখভাল করতেন। কিন্তু, আট বছর আগে ঘড়িটি ফের বন্ধ হয়ে যায়। তার পর আর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি ঘড়িটি সচল করার।

    সম্প্রতি, বিধায়ক তহবিল থেকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফাইবারের একটি আধুনিক ক্লক টাওয়ার বসানো হয়েছে। তবে, তাতে মন ভরছে না সিউড়ির মানুষের। স্থানীয় বাসিন্দা অর্ঘ্য চট্টোপাধ্যায়, ঐন্দ্রিলা মেহেরা বলেন, ‘ছোটো বেলায় বড় ঘড়ির আওয়াজেই ঘুম ভাঙত আমাদের। বহু দূর থেকে শোনা যেত ঘড়ির আওয়াজ। মা-বাবারাও ঘড়ির আওয়াজ শুনেই ঘরের কাজ সারতেন। তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ পুরোনো ঘড়ির সংস্কার করা হোক।’

    বীরভূম নাগরিক কল্যাণ সমিতির সম্পাদক সুশীল সরকার বলেন, ‘ঘড়িটিকে মেরামত করার জন্য হেরিটেজ কমিশনারের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু, সেখান থেকে কোন সদুত্তর আসেনি। সেই কারণেই সংস্কারের অভাবে বেহাল দশা ঐতিহ্যবাহী ঘড়িটির।’

    রিপোর্টিং: ঋতভাষ চট্টোপাধ্যায়

  • Link to this news (এই সময়)