• সহকর্মী মুকুলকে হারিয়ে শোকবিহ্বল 'দিদি' মমতা
    আজকাল | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মুকুল রায়কে নিজের "দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী" বলে অবিহিত করেছেন মমতা। এই খবরে তিনি "বিচলিত ও মর্মাহত" বলেও জানিয়েছেন।

    এক্স পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি লিখেছেন, 'প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে।'

    রাজনৈতিক পরিসরে মুকুল রায়ের বিচরণ ও অবদানের কথাও উঠে এসেছে মমতার পোস্টে। তিনি লিখেছেন, 'প্রয়াত মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা-লগ্ন থেকে দলের জন্য প্রাণপাত করেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন, দলের সর্বস্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল। পরে তিনি ভিন্ন পথে যান, আবার ফিরেও আসেন। বাংলার রাজনীতিতে তাঁর অবদান এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কথা ভোলার নয়। দলমত নির্বিশেষে তাঁর অভাব অনুভব করবে রাজনৈতিক মহল।'

    মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশুর প্রতি তৃণমূল নেত্রীর বার্তা, 'এই অভিজ্ঞ নেতা ও সহকর্মীর পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। শুভ্রাংশুকে বলব, মন শক্ত করো:  এই সংকটে আমরা তোমার সঙ্গে আছি।'




    রবিবার গভীর রাতে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক মুকুল রায়। মৃত্য়ুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

    বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই অসুস্থ ছিলেন মুকুল রায়। ভর্তি ছিলেন বেসরকারি হাসপাতালে। শারীরিক কারণেই দূরে ছিলেন সক্রিয় রাজনীতি থেকে। 

    মুকুল রায়, বাংলার রাজনীতিতে অন্যতম এক বর্ণময় চরিত্র। ছাত্র থাকাকালীন বা কার পরে ছাত্র পরিষদ, যুব কংগ্রেস ও কংগ্রেস করলেও মমতার হাত ধরেই তার হাত শিবিরের সঙ্গে সম্পর্কছেদ। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে ছিলেন কাঁচড়াপাড়ার মুকুল। ধীরে ধীরে তিনিই হয়ে ওঠেন তৃণমূলের 'সেকেন্ড ইন কম্যান্ড'। হয়েছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাদারণ সম্পাদক। পরে রাজ্যসভার সাংসদ হন তিনি। সামলেছেন দেশের রেলমন্ত্রী ও জাহাজমন্ত্রীর দায়িত্বও।

    পরে অবশ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়েন মুকুল। ২০১৭ সালে যোগ দেন বিজেপিতে। রাজ্য রাজনীতির অতি পরিচিত মুখকে দলের সর্বভারতীয় স্তরে পদধিকারী করে তোলে গেরুয়া বাহিনী। তবে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মুকুল রায়। জিতেও ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক পরেই দল বদল করেন মুকুল। ফিরে আসেন তৃণমূলে। 

    এর পরেই দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে সরব হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়। বিধানসভার স্পিকার অবশ্য মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করেননি। শেষে মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্ট মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশ দিলেও সুপ্রিম কোর্ট মানবিক দিক বিবেচনা করে উচ্চ আদালতের দেওয়া বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে।  
  • Link to this news (আজকাল)