ঝাড়খণ্ডে (Ranchi Plane Crash) এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স (Air Ambulance Crash) ভেঙে রোগী-সহ ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। এর মধ্যে মঙ্গলবার ভোরে সামনে এল নতুন তথ্য। দুর্ঘটনার ঠিক আগে খারাপ আবহাওয়ার জন্য রুট বদলের আর্জি জানিয়েছিলেন এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের পাইলট। তার পরেই সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার জন্য খারাপ আবহাওয়াকেই দায়ী করেছেন রাঁচি বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বিনোদ কুমারও। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচির বিরসা মুণ্ডা এয়ারপোর্ট (Birsa Munda Airport) থেকে ওড়ে বিচক্র্যাফট কিং এয়ার বিই৯এল (Beechcraft King Air BE9L) মডেলের এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। অগ্নিদগ্ধ সঞ্জয় কুমারকে (৪১) চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল দিল্লিতে। তাঁর শরীরের ৬৩ শতাংশই পুুড়ে গিয়েছিল। এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটিতে মোট সাত জন সওয়ারি ছিলেন। পাইলট-ইন-কম্যান্ড (PIC) বিবেক বিকাশ ভগত এবং কো-পাইলট সবরাজদীপ সিংয়ের পাশাপাশি ছিলেন চিকিৎসক বিকাশ কুমার গুপ্ত, প্যারামেডিক স্টাফ সচিন কুমার মিশ্র, রোগীর দুই আত্মীয় অর্চনা দেবী ও ধ্রুব কুমার। রাত ১০টায় দিল্লিতে অবতরণের কথা ছিল তাঁদের।
DGCA জানিয়েছে, রাঁচি থেকে ওড়ার পরেই আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করে। কলকাতা বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের পাইলট। তখনই রুট পরিবর্তনের অনুরোধ জানান তাঁরা। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন বারাণসী থেকে ১০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ পূর্বে ছিল এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি। লখনৌ এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গেও তাঁরা আর যোগাযোগ করতে পারেননি।
খারাপ আবহাওয়ার জেরেই দুর্ঘটনা বলে মনে করছেন রাঁচি বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বিনোদ কুমার (Ranchi airport director Vinod Kumar )। তিনি বলেন, ‘প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। তবে তদন্ত রিপোর্ট হাতে এলেই প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (AAIB) টিম। শুরু হয়েছে ঘটনার তদন্ত।
এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি ছিল রেডবার্ড এয়ারওয়েজের। ২০১৯ সাল থেকে চার্টার্ড এবং এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল তাদের। এখনও পর্যন্ত এই সংস্থার মোট আটটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনার জেরে চার্টার্ড বিমান এবং এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। গত ২৮ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের বারামতীতে ছোট চার্টার্ড বিমান দুর্ঘটনায় উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার-সহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনারও তদন্ত চলছে।