• শিকল-বাঁধা মগ নয়, মেল বা এক্সপ্রেসের টয়লেটে জেট স্প্রে!
    এই সময় | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: স্বল্পদৈর্ঘ্যের শিকলে বাঁধা স্টিলের ছোট একটা মগ। দূরপাল্লার ট্রেনের শৌচাগার বললেই এমন একটা জিনিসের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। যদিও সেই মগের আয়তন এবং শিকলের দৈর্ঘ্য — কোনওটাই স্বচ্ছন্দে ব্যবহারের উপযুক্ত নয়। কখনও মগ জায়গা–মতো পৌঁছয় না, আবার পৌঁছলেও এত কম জল ধরে যে তাতে কোনও কাজ হয় না।

    এ নিয়ে রসিক যাত্রীরা ঠাট্টাও কম করতেন না। কিন্তু, ট্রেনের শৌচাগার থেকে এই ‘যন্ত্রণা’ এ বার দূর হতে চলেছে। রেল মন্ত্রক দেশের প্রতিটি রেলওয়ে জ়োনের কাছে ট্রেনের শৌচাগারের কল এবং শিকলে বাঁধা ইস্পাতের মগ অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে। তার পরিবর্তে সেখানে জেট স্প্রে বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    দূরপাল্লার ট্রেনের শৌচাগারে প্রথমে শুধুই জলের কল থাকত বলে জানাচ্ছেন রেলের আধিকারিকরা। পরে যাত্রীদের সুবিধায় কলের পাশাপাশি একটি করে স্টিলের মগ সংযোজন করা হয়। কিন্তু তার পরেই শুরু হয়ে যায় মগ চুরির ঘটনা। শেষ পর্যন্ত চুরি আটকাতে সেই মগগুলোকে শিকলে বেঁধে দেওয়ার নিয়ম চালু হয়। পরের বহু বছর ধরে এই ব্যবস্থা চালু থাকে ট্রেনে। কিন্তু, একই সঙ্গে যাত্রীদের থেকে অভিযোগও আসতে থাকে।

    ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণের ভারপ্রাপ্ত কর্মীরা জানাতে থাকেন, ট্রেনের ঝাঁকুনির জন্যই হোক বা অন্য কোনও কারণ, মগে জল ভরার সময়েই সেই জল ছলকে পড়ত শৌচাগারের মেঝেতে। ফলে মেঝে ভিজে থাকত এবং যাত্রীদের জুতোর ময়লা ওই ভেজা মেঝেয় জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করতো। এর পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেঝে অসমান হয়ে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়ে সেখানেও জল জমে থাকত। এতে দুর্গন্ধ ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি আরও বাড়ত। এই নিয়ে যাত্রীরাও নিয়মিত অভিযোগ করতে শুরু করেছিলেন।

    এই ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে ভাবনাচিন্তা শুরু হয় রেলের অন্দরে। এর পর নর্দার্ন রেলওয়ে এবং এর পাশাপাশি দিল্লি ও আম্বালা ডিভিশনের শতাব্দী এক্সপ্রেস-এর শৌচাগারে চলে মহড়া। বসানো হয় জেট স্প্রে। শৌচাগারের কলগুলো ডামি প্লাগ দিয়ে বন্ধ করে শিকলযুক্ত মগ সরিয়ে দেওয়া হয়। দেখা যায়, আগের তুলনায় মেঝে বেশি শুকনো ও পরিষ্কার থাকছে। জলও জমছে না। নর্দার্ন রেলওয়ের শতাব্দী এক্সপ্রেসের ১৮২টি কোচে ইতিমধ্যেই জেট স্প্রে বসানো হয়েছে। রেলের বিশ্বাস, এই পরিবর্তনের ফলে শৌচাগারে জল জমার সমস্যা কমবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মান আরও উন্নত হবে।

  • Link to this news (এই সময়)