আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য জুড়ে চলা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচারকদের নিয়োগ করার পর এবার তাঁদেরকেই 'হুমকি' দেওয়ার অভিযোগ উঠল অজ্ঞাত পরিচয় কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার সকালে বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ জেলা জজের ইমেলে বিচারকদের 'হুমকি' দিয়ে এবং কোর্ট চত্বরে বিভিন্ন কোনায় বোমা রাখা রয়েছে দাবি করে একটি ইমেল এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পর ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে মুর্শিদাবাদে জেলা প্রশাসনিক মহলে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কোর্টে উপস্থিত আইনজীবী এবং বিচার প্রার্থীরা। জেলা জজের ইমেলে হুমকির খবর পুলিশ প্রশাসনের কানে যেতেই বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড এবং পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা বহরমপুরে জেলা আদালতে উপস্থিত হন। স্কোয়াডের আধিকারিকরা স্নিফার ডগ দিয়ে জেলা আদালতের বিভিন্ন ঘরে এবং প্রত্যেক কোনে তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালান। তবে দুপুর ১.৩০ পর্যন্ত কোনও বোমা খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেই জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করার জন্য দেশের সর্বোচ্চ আদালত, কলকাতা হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছে নূন্যতম অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার সমতুল্য কিছু বিচারককে শুনানি প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত করার জন্য। এই বিচারকরা মূলত 'লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি'র শুনানি করবেন বলে জানা গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত বিচারকরা যে নির্দেশ দেবেন তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বলে গণ্য হবে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলা জজ ছাড়াও এসআইআর-এর শুনানি প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন আদালতের মোট ১০ জন বিচারককে নিযুক্ত করা হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজ সঠিকভাবে না করলে এবং বেশি বাড়াবাড়ি করলে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত বিচারকদেরকে 'দেখে নেওয়া' হবে বলে হুমকি দিয়ে ইমেল এসেছে বলে জানিয়েছেন বহরমপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহম্মদ আবু বাক্কার সিদ্দিকী। যদিও এই 'হুমকি' ইমেল নিয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
আবু বাক্কার বলেন, "মঙ্গলবার আদালত খুলতেই হঠাৎই আদালত চত্বরে আমরা পুলিশকে স্নিপার ডগ নিয়ে ঘুরতে দেখি। তারপর জানতে পারি জেলা বিচারকের অফিসিয়াল মেল আইডিতে একটি হুমকি মেল এসেছে। এসআইআর-এর কাজকর্ম যদি ঠিকঠাক করা না হয় বা সেই কাজ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি হয় তা জানিয়ে বিচারককে একটি হুমকি মেল করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, আদালত চত্বরের বিভিন্ন জায়গায় বোমা রাখা আছে। যে কোনও মুহূর্তে সেগুলো ফাটতে পারে। এই খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা আতঙ্কে আছি এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।" তবে কোন আইডি থেকে কারা এই মেল করেছে তা আবু বাক্কার জানাতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, "বিচার বিভাগ হল এমন একটি জায়গা, যেখানে সাধারন মানুষ সুবিচার চাইতে আসেন। সেই বিচার বিভাগই যদি আজ আতঙ্কের মধ্যে থাকে এবং হুমকির মুখে পড়ে তাহলে বিচারক থেকে শুরু করে আইনজীবী এবং বিচারের আশায় আদালতে আসা সাধারণ মানুষ কী করবেন?" আতঙ্কিত কন্ঠে তিনি জানান, "আমি গত পঞ্চাশ বছর ধরে এই আদালতে 'প্র্যাক্টিস' করছি। অতীতে কখনও এইরকম ঘটনা দেখিনি। আমাদের মনে হচ্ছে এসআইআর-এর কাজে বিচারকদের নেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য এই ধরনের কাণ্ড ঘটানো হচ্ছে। এই রকম চলতে থাকলে বিচারকরা কী করবেন আমি জানি না।" দেবরাজ মুখার্জী নামে অপর এক আইনজীবী বলেন, "হুমকি মেলের এই ঘটনায় আমরা যথেষ্টই আতঙ্কে রয়েছি এবং এর ফলে আদালতের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। দীর্ঘ সময় এই আদালতে কাজ করলেও এই ধরনের ঘটনা কখনও শুনিনি এবং দেখিনি। আমাদের সকলেরই মনে হচ্ছে এসআইআর -এর কাজে বিচারকদের নেওয়া হয়েছে বলেই এই ধরনের হুমকি দিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে।"