ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ভেঙে মৃত্যু হয়েছে রোগী-সহ ৭ জনের। সেই অভিশপ্ত বিমানেই ছিলেন চিকিৎসক বিকাশকুমার গুপ্ত। বিমান ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয় তাঁরও। মঙ্গলবার সকালে তাঁর বাড়িতে মৃত্যুর খবর পৌঁছলে ভেঙে পড়েন নিহত চিকিৎসকের বাবা। ছেলের শোকে মুহ্যমান বাবার প্রশ্ন, ‘শেষ ফোনে বলেছিল রোগীকে নিয়ে দিল্লি যাচ্ছে। আচ্ছা, এখানে কি চিকিৎসা হয় না? দিল্লি যাওয়ার কি প্রয়োজন ছিল?’ ছেলের দিল্লি যাওয়াকেই দায়ী করছেন শোকার্ত পিতা।
সোমবার সন্ধ্যায় ৬৫ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ সঞ্জয় কুমারকে নিয়ে দিল্লি উদ্দেশে রওনা হয় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। তাতেই রোগীর দেখভালের জন্য চিকিৎসক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঁচির সদর হাসপাতালের চিকিৎসক বিকাশকুমার গুপ্ত। জানা গিয়েছে, সাংঘাতিক জখম সঞ্জয় দেবকমল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও ওই হাসপাতাল থেকে কোনও চিকিৎসক বা প্যারা মেডিক্যাল স্টাফ নেয়নি রোগীর পরিবার। তার বদলে রাঁচির সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ও প্যারামেডিক কর্মী নেন তাঁরা। তাতেই অভিশপ্ত এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে ডিউটি পড়ে চিকিৎসকের।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচির বিরসা মুণ্ডা এয়ারপোর্ট থেকে ওড়ে বিচক্র্যাফট কিং এয়ার বিই৯এল (Beechcraft King Air BE9L) মডেলের এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটিতে মোট সাত জন সওয়ারি ছিলেন। পাইলট-ইন-কম্যান্ড (PIC) বিবেক বিকাশ ভগৎ এবং কো-পাইলট সবরাজদীপ সিংয়ের পাশাপাশি ছিলেন চিকিৎসক বিকাশকুমার গুপ্ত, প্যারামেডিক স্টাফ সচিনকুমার মিশ্র, রোগীর দুই আত্মীয় অর্চনা দেবী ও ধ্রুব কুমার। রাত ১০টায় দিল্লিতে অবতরণের কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু, ওড়ার কিছুক্ষণ পরেই ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলার সিমারিয়া থানা এলাকার কাসারির জঙ্গলে সেটি ভেঙে পড়ে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে দুর্ঘটনার খবর জানতে পারে চিকিৎসকের পরিবার। এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা রোগী-সহ বাকিদেরও মৃত্যু হয়েছে।
এই আবহে মৃত চিকিৎসকের বাবা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা ANI-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মৃত চিকিৎসকের বাবা বলেন,‘আমার বড় ছেলে রাঁচির সদর হাসপাতালে কাজ করতো। যদি এখানে সঠিক স্বাস্থ্যসেবা থাকত, তা হলে চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে কেন যেত রোগী? এ দিকে আমি ছেলেকে ডাক্তারি পড়াতে সব সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছিলাম।’
স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রোগী সঞ্জয় কুমারের পরিবারও। ধাবা মালিক সঞ্জয় দিন কয়েক আগে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হন। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা সত্ত্বেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার জন্য ধার নিয়ে আট লক্ষ টাকা জোগাড় করে তাঁর পরিবার। সেই টাকায় ভাড়া নেওয়া হয় ওই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি। গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই ভেঙে পড়ে সেটি। এই এক দুর্ঘটনাতেই একসঙ্গে শেষ হয়ে গিয়েছে একাধিক পরিবার।
উল্লেখ্য, এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি ছিল রেডবার্ড এয়ারওয়েজ়ের। ২০১৯ সাল থেকে চার্টার্ড এবং এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি পরিষেবার কাজ শুরু করে। এখনও পর্যন্ত এই সংস্থার মোট আটটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে। তবে, এই দুর্ঘটনার জেরে চার্টার্ড বিমান এবং এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠে গেল। গত ২৮ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের বারামতীতে ছোট চার্টার্ড বিমান দুর্ঘটনায় উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার-সহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনারও তদন্ত চলছে।