তরুণ ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যুর ঘটনার পরে এ বার মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে গাছে বেঁধে রাখার অভিযোগ সেই খড়্গপুর গ্রামীণেই। দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার কেশিয়াড়ির তরুণ ইঞ্জিনিয়ার সৌম্যদীপ চন্দের মৃত্যুর রেশ এখনও কাটেনি, তার মধ্যেই চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে ইলেকট্রিক খুঁটিতে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠল খড়্গপুর গ্রামীণের পলশা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচপাড়া এলাকায়। সোমবার রাতের এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে খড়্গপুর গ্রামীণ থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সবং ব্লকের ওই যুবক সোমবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ ভুলবশত পাঁচপাড়া গ্রামে ঢুকে পড়েন। অভিযোগ, স্থানীয় কিছু মানুষ তাঁকে চোর সন্দেহে আটক করে ইলেকট্রিক খুঁটিতে বেঁধে রাখে। এর পরে শুরু হয় মারধর। আক্রান্ত যুবক বহু কাকুতি-মিনতি করলেও দীর্ঘক্ষণ তাঁকে খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খড়্গপুর লোকাল থানার পুলিশ।
যুবককে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। আক্রান্ত যুবকের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সীমন্ত মিশ্র ও শ্রীকান্ত মিশ্র নামে দুই অভিযুক্তকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গত ৮ জানুয়ারি রাতে কেশিয়াড়ির গিলাগেড়িয়ার সৌম্যদীপ চন্দ নামে এক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারকেও খড়্গপুর গ্রামীণের একটি এলাকায় বহিরাগত সন্দেহে বেধড়ক মারধর করা হয়। টানা ১২ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করার পরে গত শুক্রবার ভুবনেশ্বরের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
জেলা পুলিশ সুপার পলাশচন্দ্র ঢালি বলেন, ‘গুজবের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে প্রচার চালাচ্ছে পুলিশ। সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’