• বাবার কাটা মাথা নিয়ে গাড়িতে ২১ কিলোমিটার পাড়ি, লখনৌ হত্যাকাণ্ডে হাড়হিম করা তথ্য প্রকাশ্যে
    এই সময় | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • লখনৌ হত্যাকাণ্ডে (Lucknow Murder) পুলিশের হাতে এল নতুন তথ্য। অভিযোগ, বাবা মানবেন্দ্র সিং (৫০)-কে গুলি করে খুনের পরে প্রমাণ লোপাট করতে তাঁর হাত, পা কেটে ফেলেছিলেন ছোট ছেলে অক্ষতপ্রতাপ সিং। শুধু তাই নয়, বাবার কাটা মাথা নিয়ে প্রায় ২১ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে (Drive) একটি জঙ্গলে ফেলেও এসেছিলেন তিনি। এমনই দাবি তদন্তকারীদের।

    পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন লখনৌয়ের ‘বর্ধমান প্যাথলজি’-র মালিক মানবেন্দ্র প্রতাপ সিং। নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরে তদন্তে নামে পুলিশ। সন্দেহ হওয়ায় তাঁর ছেলে, B.Com পড়ুয়া অক্ষতপ্রতাপ সিংকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করেন তদন্তকারীরা। পুলিশের টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভেঙে পড়ে বাবাকে খুনের কথা স্বীকার করে নেন তিনি।

    পুলিশকে অক্ষত জানিয়েছেন, ২০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ বাবার সঙ্গে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে প্রবল বচসা হয়েছিল তাঁর। এরপরে রাগের মাথায় তিনি বাবাকে রাইফেল দিয়ে গুলি করে হত্যা করেন। পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহটি তিনতলা থেকে একতলার ঘরে নামিয়ে এনে একটি নীল ড্রামে ঢোকানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু না ঢোকায়, করাত দিয়ে হাত, পা আর মাথা কেটে ফেলেন।

    পুলিশের দাবি, জেরায় অক্ষত স্বীকার করে নিয়েছেন যে, কাটা মাথা দূরে কোথাও ফেলার জন্য তিনি গাড়ি চালিয়ে প্রায় ২১ কিলোমিটার যান। হাত আর পা-ও আলাদা আলাদা জায়গায় ফেলে দেন, যাতে কারও সন্দেহ না হয়। বাকি দেহ নীল ড্রামে রাখা ছিল। আর খুনে ব্যবহৃত রাইফেলটি মাটিতে গর্ত করে পুঁতে ফেলেন অক্ষত। পুলিশ ইতিমধ্যেই ড্রামটি থেকে পচাগলা দেহাংশ উদ্ধার করেছে।

    অক্ষত পুলিশকে জানিয়েছিলেন, NEET পাশ করা নিয়ে জোরাজুরি করাতেই বাবাকে খুন করেছিলেন তিনি। তবে তদন্তে উঠে এসেছে অন্য তথ্য। প্যাথলজি ল্যাব ছাড়াও মানবেন্দ্রর তিনটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকানও ছিল। সফল ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও তিনি চাইতেন, ছেলে লেখাপড়া করুক। উচ্চশিক্ষিত হোক। কিন্তু অক্ষত বাবার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে চাইতেন বলে দাবি তদন্তকারীদের।

    পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদেও পরিবারের সদস্যরা অক্ষতর বিরুদ্ধে এমন দাবি করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, পড়াশোনা করতে চাইতেন না অক্ষত। এই নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে বেশ কয়েক বার বচসাও হয়েছিল। একবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়েও গিয়েছিলেন তিনি। প্রতিবেশিরাও এমনটাই জানিয়েছেন পুলিশকে। লখনৌয়ের DCP (সেন্ট্রাল) বিক্রান্ত বীর বলেন, ‘প্রাথমিক ভাবে পড়াশোনার চাপের কারণে খুন মনে হলেও, তদন্তে ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতভেদের বিষয়টাও উঠে আসছে। অভিযুক্তরা প্রায়ই বন্দুক দেখিয়ে বড়াই করতেন বলেও জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। তদন্ত শেষ হলেই খুনের আসল কারণ জানা যাবে।’

  • Link to this news (এই সময়)