• মিটার দেখার নামে বাড়িতে ঢুকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ, থানার দ্বারস্থ শিক্ষিকা
    এই সময় | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • মিটারে সমস্যা নেই, কোনও অভিযোগ যায়নি ইলেকট্রিক অফিসে (Electric Office)। অথচ মিটার রিডিং নেওয়ার নাম করে বাড়িতে ঢুকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠল বিদ্যুৎ দপ্তরের এক অ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর শহরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে।

    খড়্গপুর শহরের ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা দীপিকা সিনহা এই অভিযোগ তুলে টাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন । যদিও সে সময়ে তিনি বাড়িতে ছিলেন না বলেই জানিয়েছেন। তিনি পেশায় শিক্ষিকা (Teacher)। বাড়ির মিটার তাঁর নামে রয়েছে। অভিযোগ, সোমবার যখন ওই শিক্ষিকা বাড়িতে ছিলেন না, তখন ইলেকট্রিক অফিস থেকে কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে আসেন ওই সরকারি আধিকারিক। অভিযোগ, তিনি বলেন, মিটার দেখবেন। সেই সময়ে বাড়িতে ছিলেন ওই শিক্ষিকার স্বামী নিখিল সিনহা। বাড়িতে ঢুকে মিটারে কারসাজি করা আছে বলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন ওই ইঞ্জিনিয়ার। এমনকী মিটার খুলে নেওয়া এবং মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা করেন ওই ব্যক্তি। এমনটাই অভিযোগ করেছেন দীপিকা।

    তাঁর অভিযোগ, 'আমার মেয়ের ISC (দ্বাদশ শ্রেণির) পরীক্ষা চলছে। বুধবার পরীক্ষা আছে। অথচ, বাড়ি এখন অন্ধকার! আমার স্বামী কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী, আমি শিক্ষিকা। মিটারে কারসাজি করেছি বলে আমাদের নামে অভিযোগ! যদি মিটারে কোনও সমস্যা থাকেও, তাহলে আমাদেরকে উপযুক্ত প্রমাণ-সহ তা না দেখিয়ে কী ভাবে বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়া হলো বা মিটার খুলে নেওয়া হলো?'

    যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই আধিকারিক জানান, 'আমাদের কিছু বলার এক্তিয়ার নেই। যা বলার রিজিওনাল ম্যানেজার বলবেন।' এই বিষয়ে মেদিনীপুর রিজিওনাল অফিসের ম্যানেজার নারায়ণ ভৌমিক বলেন, 'বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধে আমাদের ধারাবাহিক অভিযান চলছে। এক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল বলেই আমাদের কর্মীরা গিয়েছিলেন। উনি কী অভিযোগ করেছেন, আমার জানা নেই।' যদিও, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ চন্দন সাহা বলেন, 'এই ধরনের অভিযান হলে ভিডিয়োগ্রাফি করার নিয়ম আছে। এক্ষেত্রে কী হয়েছে খতিয়ে দেখব। তবে, বাড়িতে যেহেতু পরীক্ষার্থী আছেন, বিদ্যুৎ দপ্তরের আরও একটু মানবিক হওয়া উচিত ছিল।’

  • Link to this news (এই সময়)