• ফুসফুসে কৃমি! বিরল রোগীর সন্ধান পেল কলকাতা মেডিক্যাল
    আজকাল | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • বিভাস ভট্টাচার্য: ফুসফুসে কৃমি! সচরাচর দেখা যায় না। এবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে পাওয়া গেল এরকম এক রোগীর খোঁজ। যা প্রথমটা বেশ কিছুটা অবাকই করে দিয়েছিল চিকিৎসকদের। কীভাবে এই কৃমি গোটা ফুসফুসে ছড়িয়ে যাওয়া আটকানো যাবে এবং রোগীকে সুস্থ করে তোলা যাবে তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে চলে দীর্ঘ আলোচনা। শেষ পর্যন্ত মেলে সুরাহার পথ। সঙ্কটমুক্ত করে রোগীকে তাঁরা সুস্থ করে বাড়ি পাঠান। 

    বিষয়টি নিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস বলেন, “কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ সবসময়ই চেষ্টা করে রোগী যে সমস্যা নিয়েই আসুন না কেন তাঁকে সর্বোচ্চ পরিষেবা দিতে। এটাও একটা সেরকমই প্রচেষ্টা।” 

    সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ‘চেস্ট অ্যান্ড রেসপিরেটরি’ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা: শিবেশ কুমার দাস বলেন, “এটা আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।”

    রোগী প্রসঙ্গে চেষ্ট অ্যান্ড রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা: সব্যসাচী চৌধুরী বলেন, “রোগী এখন আগের থেকে ভাল আছেন। হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়ে গিয়েছেন।”

    বিষয়টি নিয়ে বলতে গিয়ে ডাঃ সব্যসাচী চৌধুরী জানান, “খুব সাধারণ কাশি এবং গলা খুসখুস নিয়ে ৩৫ বছরের কাছাকাছি এক মহিলা আমাদের এখানে দেখাতে আসেন। ফুসফুসের অবস্থা বোঝার জন্য তাঁকে আমরা এক্স রে করতে বলি। সেই রিপোর্টে দেখা যায় তাঁর ফুসফুসের মধ্যে সাদা রঙের গোলাকৃতি বেশ কিছু ‘সিস্ট’। ভালভাবে বুঝতে চেয়ে তাঁর বুকে সিটি স্ক্যান করানো হয়। এরপর রক্ত পরীক্ষায় চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন এগুলি সব কৃমির লার্ভা বা ‘হাইড্যাটিড সিস্ট’। যা সাধারণত লিভারে হয়। কৃমির লার্ভা জড়ো হয়ে এই সিস্ট তৈরি হয়। লিভারের মধ্যে হলেও ফুসফুসে এই ধরনের সিস্ট প্রায় দেখাই যায় না।”

    এই অবস্থায় কৃমি বের করে আনতে রোগীর অস্ত্রোপচার করা ঠিক হবে কি হবে না সেই নিয়ে হাসপাতালের ‘কার্ডিয়োথোরাসিস অ্যান্ড ভ্যাসকুলার সার্জারি’ (সিটিভিএস) বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন রেসপিরেটরি বিভাগের চিকিৎসকরা। ডাঃ সব্যসাচী চৌধুরী বলেন, “বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় অস্ত্রোপচার না করে কৃমি রোগের চিকিৎসায় যে ওষুধ ব্যবহার করা হয় সেই ওষুধ রোগীকে দেওয়া হবে। তাই করা হয়। চিকিৎসায় সাড়া মেলে। রোগী সঙ্কটমুক্ত হওয়ার পর তাঁকে কৃমি রোগের ওষুধ দিয়ে ছুটি দেওয়া হয়। ‘ফলো আপ ট্রিটমেন্ট’ করতে বলা হয়েছে।” ডাঃ সব্যসাচী চৌধুরী ছাড়াও অন্যান্য যারা ছিলেন তাঁরা হলেন, ডাঃ দেবার্ঘ মুখার্জি, ডাঃ বিট্টু বিশ্বাস এবং ডাঃ অভিনব কুমার। 

    কীভাবে হয় এই রোগ? রেসপিরেটরি বিভাগের এই অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর জানিয়েছেন, “রেড মিট এর একটি উৎস। দীর্ঘদিন ধরে কেউ যদি নিয়মিত রেড মিট খায় তবে তার শরীরে এই রোগ বাসা বাঁধতে পারে। এর পাশাপাশি আরও একটি সোর্স হল কুকুর বা এই ধরনের প্রাণীর মল। খালি পায়ে হাঁটার সময় যদি কারুর পায়ে এই মল লেগে যায় তাহলে সেখান থেকেও এই রোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে সাধারণত রোগটি লিভারেই হয়। ফুসফুসে এই রোগের সংক্রমণ নিয়ে আসা খুবই বিরল।”
  • Link to this news (আজকাল)