এই সময়: আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে জোড়াফুলের (Trinamool Congress) প্রার্থীদের নাম ঘোষিত না হলেও মনোনয়ন (Nomination) দাখিলের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে তৃণমূলের পরিষদীয় নেতৃত্ব। রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে থাকেন বিধায়করা। বিধানসভায় মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষের তরফে মঙ্গলবার দলীয় বিধায়কদের আগামী বৃহস্পতি, শুক্র ও সোমবার বিধানসভায় উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছে। জোড়াফুলের চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে যে বিধায়কদের স্বাক্ষর করতে হবে তাঁদের ওই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
বিধানসভার প্রবীণ আধিকারিদের বক্তব্য, রাজ্যসভার প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে কমপক্ষে একজন বিধায়ক প্রস্তাবক হিসেবে থাকেন, সেই প্রস্তাবককে সমর্থন করে আরও দশ জন বিধায়কের স্বাক্ষর লাগে। এ ছাড়া একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্রের একাধিক সেট জমা দেন। যাতে কোনও একটি ত্রুটি–বিচ্যুতি থাকলে সমগ্র মনোনয়ন বাতিল না হয়।
বিধায়কদের প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের জন্য সোমবার পর্যন্ত সময়সীমা দেওয়ায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের একাধিক প্রবীণ সদস্যর পর্যবেক্ষণ, সে ক্ষেত্রে ৫ মার্চ জোড়াফুলের রাজ্যসভার প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন। যদি তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নতুন কোনও নির্দেশ দেয় তা হলে আগামী সোমবার মনোনয়ন দাখিল করা হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) সূচি অনুযায়ী আগামী ৬ মার্চ মনোনয়নপত্র স্ক্রুটিনি হবে। প্রত্যাহারে শেষ দিন ৯ মার্চ।
বিধানসভায় শাসক–বিরোধী বিধায়কদের বর্তমান বিন্যাস অনুযায়ী পাঁচটি রাজ্যসভার আসনের মধ্যে চারটি জোড়াফুলের ঝুলিতে যাবে। একটি আসন পদ্মফুল পাবে। কিন্তু গেরুয়া শিবির যদি একের বেশি প্রার্থী দেয়, তা হলে ১৬ মার্চ ভোটাভুটি হতে পারে। যদিও হিসেব বলছে, বিজেপি–র দুটি আসনে জেতার মতো বিধায়ক নেই। কিন্তু রাজনৈতিক কৌশল করে গেরুয়া শিবির যদি দু’জন প্রার্থী দেয় সেই পরিস্থিতি দিকে তাকিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে বলে তৃণমূলের একাধিক নেতার বক্তব্য। সুব্রত বক্সী, সাকেত গোখলে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিকাশ ভট্টাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং মৌসম বেনজির নুর ইস্তফা দেওয়ায় রাজ্যসভার পাঁচটি আসনে ভোট হতে চলেছে।