আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাওড়ার গোলাবাড়ি থানায় পিলখানায় চলল গুলি। গুলিবিদ্ধ হলেন এক প্রোমোটার। বুধবার ভোর রাতে চায়ের দোকানে পর পর ৬ রাউণ্ড গুলি চলে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত প্রোমোটারের নাম সফিকুল। পরিবার সুত্রে খবর প্রোমোটিং বন্ধ করার জন্য বার বার হুমকি এমনকি মেরে ফেলার হুমকি কয়েকদিন ধরেই আসছিল। তারপরই ঘটে এই ঘটনা। অভিযুক্তদের খোঁজ করছে পুলিশ।
কাকভোরে হওয়া এই ঘটনার জেরে হাওড়ায় রীতিমতো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে প্রোমোটারকে গুলি করা হয়। অভিযোগের তির দুই দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই প্রোমোটারের। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে এই ছবি ধরা পড়েছে।স্থানীয় সূত্রে খবর, রমজান মাস চলায় বুধবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ওই যুবক। এরপরই দুই দুষ্কৃতীর হাতে নৃশংসভাবে প্রাণ হারালেন ওই যুবক। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেশে সকলে চমকে গিয়েছে। পুলিশ ছবি সংগ্রহ করে অপরাধীদের অনুসন্ধানে নেমেছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে রাস্তায় যুবক দুজনের সঙ্গে কথা বলছিল। তার পাশে দাড়িয়ে ছিলেন আরও কয়েকজন। হঠাৎই দুই অভিযুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র বের করে যুবকের মাথা ও বুকে গুলি চালায়। তখনই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন যুবক। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে আসে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন এই যুবক এলাকার প্রোমোটারির কাজ করতেন। সেখানেই হয়তো কোনও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিবাদের জেরেই হয়তো এই খুন বলে অনুমান করা হচ্ছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করার দাবি উঠেছে গোলাবাড়িতে।
এই ঘটনার পর সেখানে আসেন ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর মহম্মদ রুস্তম খান। তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারির দাবি জানান। কী কারণে এই খুন তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। ঘটনার জেরে রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এলাকার দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতী হারুন খান ও রোহিতের সঙ্গে পুরনো শত্রুতার জেরেই এই হামলা। তবে নিহতের পরিবারের দাবি ভিন্ন। তাঁদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই প্রোমোটারের কাছে মোটা টাকা দাবি করছিল স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতী। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় এই চরম পরিণতি।
হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি (নর্থ) অম্লান কুসুম ঘোষ জানিয়েছেন, "ভোর চারটে নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। পুরনো শত্রুতার জেরে শ্যুটআউট বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তোলাবাজির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।" তিনি আরও জানান যে, এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ রুখতে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
জনবহুল এলাকায় যেভাবে সাতসকালে হেঁটে এসে খুনের ঘটনা ঘটল, তাতে পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি র্যাফ নামানো হয়েছে। দোষীদের খোঁজে জোরকদমে তল্লাশি শুরু করেছে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ।