• ৩৫,০০০-এর ঋণ সুদে-আসলে বেড়ে কোটি টাকা! ‘ঐতিহাসিক’ লোন আদায়ে ব্রিটিশ সরকারকে নোটিস ভারতীয়র
    এই সময় | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এ যেন ঠিক সেই ‘ছিল রুমাল, হয়ে গেল বেড়াল!’ ৩৫,০০০ টাকার ঋণ সুদে-আসলে বেড়ে কোটি টাকারও বেশি। ‘ঐতিহাসিক’ এই লোনের খবর সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, ১০৯ বছর আগে ইংরেজ সরকার (British Government) এই লোন নিয়েছিল মধ্যপ্রদেশের এক শেঠের কাছ থেকে। আসল-সুদ আর মূল্যবৃদ্ধির হার — সব মিলিয়ে সেই ঋণের পরিমাণই এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৮৫,০০,০০০ (১ কোটি ৮৫ লক্ষ) টাকা।

    ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (First World War) সময় ইংরেজ সরকার অর্থনৈতিক ভাবে খুব সমস্যায় পড়েছিল। সরকার চালানো এবং যুদ্ধের খরচের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন ছিল। সেই কালে রুঠিয়া পরিবার মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) সেহোরে অত্যন্ত পরিচিত এবং গণ্যমান্য ছিল। শেঠ যমুনালাল রুঠিয়ার কাপড় এবং দানাশস্যের বড় ব্যবসা ছিল। অভিজাত এবং ধনী হিসেবেও সমাজে তাঁদের খ্যাতি ছিল। জনকল্যাণের জন্য অনেক স্কুল এবং হাসপাতাল তৈরি করেছিলেন শেঠ যমুনালাল রুঠিয়া।

    অর্থনৈতিক সমস্যার সময়ে যমুনালালের কাছ থেকেই সরকারি খরচ-খরচা চালানোর জন্য ৩৫,০০০ টাকা ধার নিয়েছিল ইংরেজ সরকার। তার বিনিময়ে টাকা সুদ-সহ ফেরত দেওয়ার লিখিত কাগজও দেওয়া হয়েছিল ইংরেজ সরকারের তরফে। কিন্তু, তারপরে যা হয়! ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হলো ইংরেজ সরকারও টাকা দিতে ভুলে গেল। ফলে ৩৫,০০০ টাকার সেই ঋণের কথাও হারিয়ে গেল কালের গর্ভে।

    কিন্তু, লোনের সেই কাগজ এখন হাতে এসেছে শেঠ যমুনালালের নাতি বিবেক রুঠিয়ার। সেই কাগজে ৩৫,০০০ টাকা ঋণ নেওয়া এবং সময়ে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার কথাও লেখা রয়েছে বলে বিবেকের দাবি। তিনি জানান, ঋণ নেওয়ার পরে ১০৯ বছর কেটে গেলেও টাকা ফেরত দেয়নি ইংরেজ সরকার। সুদে আসলে সেই ৩৫,০০০ টাকা এখন বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা!

    বিবেক জানিয়েছেন, ১৯৩৭ সালে তাঁর দাদু যমুনালাল রুঠিয়ার মৃত্যু হয়। তারপরে তাঁর বাবা মানিকচাঁদ রুঠিয়া পারিবারিক দলিল-কাগজপত্রের সঙ্গে এই ঋণের কাগজও সযত্নে রেখেছিলেন। ২০১৩ সালে বাবার মৃত্যুর পরে সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়ে বিবেকের উপরে। তিনি জানান, সম্প্রতি একটি পারিবারিক সমস্যার কারণে পুরোনো কাগজপত্র খুঁজতে গিয়ে ঋণের এই ‘ঐতিহাসিক’ কাগজটি হাতে এসেছে তাঁর।

    বিবেক জানিয়েছেন, ব্রিটিশ সরকারকে লিগাল নোটিস পাঠিয়ে ঋণ শোধ করার আবেদন করবেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘ব্যাপারটা নিছক টাকাপয়সার নয়, ঐতিহ্য আর ইতিহাসের।’ আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মামলাটি হগ কোর্ট কিংবা কোনও আন্তর্জাতিক জুডিশিয়াল ফোরামে উঠতে পারে। কিন্তু, শতাব্দী প্রাচীন এই ডকুমেন্টের সত্যতা প্রমাণ করাই চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

  • Link to this news (এই সময়)