• দোলে চাই ভেষজ আবির, তমলুকের কারখানায় ব্যস্ত শ্রমিকেরা
    এই সময় | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • পুলক বেরা, তমলুক

    কড়া নাড়ছে দোল (Holi)। কথিত আছে, এই দিনে বৃন্দাবনে (Vrindavan) শ্রীকৃষ্ণ ও রাধারানি আবির ও রঙের মাধ্যমে প্রেমলীলা উদযাপন করেছিলেন। এটি রাধা-কৃষ্ণের শাশ্বত ভালোবাসার প্রতীক। সেই দিনটিতে ঠাকুরের পায়ে রং ছুঁয়েই শুরু হয় দোল খেলা। কিন্তু আগে অনেকেই ইচ্ছা থাকলেও আবির কিংবা রং খেলতে চাইতেন না।

    কারণ, কেমিক্যাল থাকায় রঙে ত্বকের ক্ষতি হচ্ছিল। তবে এখন ঘরে ঘয়ে আনা হচ্ছে ভেষজ আবির (Herbal Abir)। আর সেই আবিরেই মেতে উঠছে আট থেকে আশি। চাহিদাও তুঙ্গে। তাই তমলুকের (Tamluk) কারখানাগুলি কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে ভেষজ আবির তৈরিতে। ফুল, পাতা শুকিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভেষজ আবির। তমলুক শহরের ভেষজ আবির তৈরির কারখানাগুলিতে চলছে দিনরাত কাজ।

    বাজারে চাহিদা বেড়েছে পরিবেশবান্ধব, ত্বক-নিরাপদ ভেষজ আবিরের। মানুষ যত স্বাস্থ্য সচেতন হচ্ছে, দোলের রঙেও তাঁরা সচেতন। কেমিক্যালযুক্ত আবিরের পরিবর্তে এখন বেশির ভাগেরই ভরসা ভেষজ আবির। প্রায় তিন দশক ধরে তমলুকের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরচড়া শংকর আড়া এলাকায় একাধিক কারখানায় এই ভেষজ আবির তৈরি হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে অনেক।

    কারখানার কর্মীরা জানিয়েছেন, অ্যারারুট থেকে তৈরি হয় এই আবির। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় অ্যারারুটের সঙ্গে প্রাকৃতিক রঙ মিশিয়ে ফুটিয়ে নেওয়া হয়, তারপর চলে শুকোনোর কাজ। রোদে ভালো ভাবে শুকিয়ে নেওয়ার পরে চালুনি দিয়ে ছেঁকে প্যাকেটজাত করা হয় আবির। কোনও রকম কেমিক্যাল ছাড়াই তৈরি হওয়ায় এটি ত্বকের জন্য নিরাপদ।

    তমলুকের এক ভেষজ আবির উৎপাদন কারখানার ম্যানেজার চন্দন কুমার বলেন, ‘আমাদের কারখানায় দশটি রঙের ভেষজ আবির তৈরি হয়। চার জন কর্মী মিলে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাত কুইন্টাল আবির উৎপাদন করেন। প্রতি বছর দোলের তিন মাস আগে থেকে কাজ শুরু হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এই আবির সরবরাহ করা হয়।’ কারখানায় এখন খুবই কাজের চাপ। জেলা আয়ূষ অফিসার প্রকাশ হাজরা বলেন, ‘কেমিক্যালযুক্ত আবিরের তুলনায় ভেষজ আবির শরীরের পক্ষে অনেক নিরাপদ। এতে ত্বকের কোনও ক্ষতি হয় না। তবে উৎসবের আনন্দে চোখে যাতে আবির না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।’

  • Link to this news (এই সময়)