বুধবার ভোরে হাওড়ার পিলখানা এলাকায় চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়য়েছিলেন সফিক খান। ঘড়িতে তখন ৪টে ১০ মিনিট। দুই আততায়ী সফিকের সামনে দাঁড়ায়। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কথা শুরু হয়। সফিককে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের মধ্যে একজন বন্দুক বের করে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সফিক মাটিতে লুটিতে পড়তেই আরও কয়েক রাউন্ড গুলি চলে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজে যে দু’জনকে আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছে, তাঁরা হলেন হারুন খান ও রোহিত। ঘটনার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, হারুন তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ। এমনকি, তৃণমূলের স্থানীয় বিধায়ক গৌতম চৌধুরীকে হারুনের বাইকে চেপে প্রচারেও দেখা গিয়েছে। যদিও, হারুনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা অস্বীকার করেছেন তৃণমূল বিধায়ক।
বিজেপির অভিযোগ, হারুন খান হাওড়া পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব নেতা। বিজেপি-র রাজ্য নেতা উমেশ রাইয়ের দাবি, ‘হারুন খান উত্তর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ। বাইকে চেপে তাঁকে ঘুরতে দেখা গিয়েছে। সেই ছবি ভাইরাল। অন্য অভিযুক্ত রোহিত আর্মস ডিলার। জেলখাটা আসামি। যাঁকে খুন করা হয়েছে সেই সফিক একটা ক্রিমিনাল গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত।’ বিধায়কের মদতে এলাকায় সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্য দিকে, স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরী বলেন, ‘অভিযুক্তদের আমি সেই ভাবে চিনি না। দলের মিছিলে এবং মিটিংয়ে হাজার হাজার লোক আসেন। অনেকের বাইকে চড়ে ঘুরতে হয়। তাই পরে কে কী অপরাধ করবে তা আগে থেকে বলা যায় না।’ এই ঘটনায় দোষীদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি।
নিহতের পরিবারের দাবি, তোলাবাজির টাকা না পেয়েই গুলি চালিয়েছে হারুন ও তার দলবল। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। দোষীদের গ্রেপ্তার না করলে ভোট বয়কট করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ কমিশনার আকাশ মাঘারিয়া জানান, প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে দু’জন জিন্সের প্যান্টের ব্যবসা করত। টাকা নিয়ে বিবাদ ছিল। অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।