পিছিয়ে বিরোধীরা, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই খসড়া প্রার্থীতালিকা তৈরি তৃণমূলের!
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রাথমিক সূত্র অনুযায়ী, কলকাতায় যে কটি বিধানসভা আসন রয়েছে সেগুলির মধ্যে বেশিরভাগেই শাসকদলের বর্তমান বিধায়ককে টিকিট দেওয়া হবে। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে ফের লড়তে দেখা যাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বাবুল সুপ্রিয়র বদলে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বালিগঞ্জ আসনের প্রার্থী করা হতে পারে। অন্যদিকে রাসবিহারী কেন্দ্রে দেবাশিস কুমার, কলকাতা বন্দরে ফিরহাদ হাকিম ও টালিগঞ্জে ন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের প্রার্থী হওয়া প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। বেহালা পশ্চিম অর্থাৎ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আসনে প্রার্থী বদল করা হবে। এই কেন্দ্রে অভিজ্ঞ কোনও ব্যক্তিকে প্রার্থী করা হতে পারে। বেহালা পূর্বে প্রার্থী বদল হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। সেখানে বর্তমানে বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়। উত্তর কলকাতার প্রার্থীতালিকাতেও খুব বেশি পরিবর্তন করা হবে না। কলকাতা সংলগ্ন উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার আসনগুলিতে প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। বারাসত আসনে তিনবারের তারকা বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী আগেই জানিয়েছেন, তিনি আর লড়তে চান না। তাই বারাসত আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করা হবে। অন্যদিকে সুজিত বসু, নির্মল ঘোষ, মদন মিত্ররা নিজেদের সংশ্লিষ্ট আসন থেকেই লড়াই করবেন। অন্যদিকে যাদবপুর, বারুইপুর ও সোনাপুরেও গতবারের প্রার্থীদেরই প্রার্থী করা হবে। কসবায় জাভেদ খানকে প্রার্থী করা হতে পারে। ভাঙড় আসনে অভিজ্ঞ কোনও রাজনীতিবিদকে দায়িত্ব দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিশেষ নজরে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনটি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই এই আসনে প্রার্থী করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে চাইছে রাজ্যের শাসকদল। কোনও ভূমিপুত্রকে এই কেন্দ্রে লড়াই করার সুযোগ দিতে পারেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চণ্ডীপুরের তারকা বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর আসন বদলাতে পারে। পটাশপুরের বিধায়ক উত্তম বারিককে অন্য আসনে প্রার্থী করা হতে পারে। রামনগরে প্রার্থী করা হতে পারে অখিল গিরিকে। হলদিয়া থেকে তৃণমূলের হয়ে লড়াই করতে পারেন তাপসী মণ্ডল। হাওড়া ও হুগলি জেলার বেশিরভাগ বিধানসভা আসনে আগের প্রার্থীরাই টিকিট পাবেন বলে জানা গিয়েছে। হাওড়ায় কয়েকটি আসনে তরুণ মুখকে প্রার্থী করা হতে পারে। শিবপুরে মনোজ তিওয়ারি প্রার্থী হবেন কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে গৌতম চৌধুরী, অরূপ রায়রা এবারও টিকিট পেতে চলেছেন। মুর্শিদাবাদ জেলার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী পরিবর্তনের কথা ভাবছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে কোন কোন আসনে এই বদল আনা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম, বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় কিছু রদবদল হতে পারে, কিন্তু বড়সড় চমক থাকার সম্ভাবনা কম বলেই দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে অবশ্য প্রার্থী বাছাইয়ে বিশেষ কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাজবংশী অধ্যুষিত অঞ্চল, চা-বাগান এলাকার ভোটব্যাঙ্ক এবং পাহাড়ি রাজনৈতিক শক্তিগুলির সঙ্গে টক্কর—সব মিলিয়ে সেখানে জটিল সমীকরণ কাজ করছে । ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, কোচবিহারের ৯টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৫টিতেই এগিয়ে ছিল তৃণমূল, ফলে এই জেলায় শাসকদলের অবস্থান ভালো। এদিকে কার্শিয়াংয়ের বিদ্রোহী বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা সম্প্রতি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তবে তিনি এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হবেন কি না তা নিয়ে জল্পনা চলছে। অন্যদিকে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে আসা মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির প্রাক্তন বিধায়ক শংকর মালাকারকে প্রার্থী করা হবে কি না তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৯৪টি আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নির্ধারণ করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন দেখার, কোন কোন পুরনো মুখ বাদ পড়ে এবং কারা সুযোগ পান। এবার কোন কোন তারকা প্রার্থীকে এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে নামানো হবে তা নিয়েও আলোচনা চলছে।