সিপিএমের রাজ্য ও জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগের পর থেকেই শিরোনামে ছিলেন তিনি। পদত্যাগপত্র প্রকাশ্যে আসার পর জল্পনা শুরু হয়, তিনি শাসকদলে যোগ দিতে চলেছেন। অবশেষে ২১ ফেব্রুয়ারি আমতায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলের পতাকা তুলে নিয়ে জল্পনায় সিলমোহর দেন প্রতীক। এরপরই তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কাটাছেঁড়া শুরু হয়।
পদত্যাগের আগে সিপিএম নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। বিশেষ করে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে ‘গব্বর সিং’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন। যদিও সেলিমের প্রতিক্রিয়া ছিল আবেগঘন— তিনি বলেন, প্রতীককে হারানো সন্তানের মতোই মনে হচ্ছে।সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে প্রতীককে প্রশ্ন করা হয়, সেলিমের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা হলে কী করবেন?
জবাবে তিনি বলেন, প্রথমেই খোঁজ নেবেন কেমন আছেন। তারপর তাঁর হাত ধরে ক্ষমা চাইবেন। তাঁর কথায়, ‘সেলিমদাকে দেখলেই প্রথমে জিজ্ঞেস করব, ভালো আছেন? তারপর হাত দুটো ধরে বলব, ক্ষমা করে দিন। আপনার শেষ কথাগুলো আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে’। একই সঙ্গে প্রাক্তন সহযোদ্ধা ও কর্মী-সমর্থকদের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। স্বীকার করেছেন, তাঁর সিদ্ধান্তে অনেকেই আঘাত পেয়েছেন।
তবে তৃণমূলে যোগ নিয়ে অনুতাপের জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন প্রতীক। জানিয়েছেন, ২০ বছর বাম রাজনীতিতে সময় দিয়েছেন, এবার আগামী ২০-৩০ বছর তৃণমূলকেই দিতে চান। তাঁর লক্ষ্য মানুষের জন্য কাজ করা এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। অর্থের বিনিময়ে দলবদলের অভিযোগও খারিজ করে তিনি দাবি করেন, রিচার্জ করার টাকাও নাকি তাঁর কাছে নেই। সব মিলিয়ে অনুশোচনার সুর থাকলেও নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছেন প্রতীক উর রহমান।