• ‘বাড়ির ঝগড়া বিধানসভায়’! মুখ্যমন্ত্রী স্বামীকে প্রশ্নবাণে বিঁধলেন বিধায়ক স্ত্রী, দেখুন
    এই সময় | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মতানৈক্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই বিতর্ক যখন রাজনীতির আঙিনায়, বিশেষত বিধানসভার ভিতরে পৌঁছে যায়, তখন তা নিঃসন্দেহে বিরল ঘটনা। বুধবার ঠিক এমনই এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল মেঘালয় বিধানসভা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে সরকারি কাজের কৈফিয়ত দিতে হলো খোদ তাঁর স্ত্রীর কাছে!

    মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী তথা NPP সুপ্রিমো কনরাড সাংমা। তাঁর স্ত্রী মেহতাব চান্দি এ সাংমা একই দলের বিধায়ক। এ দিন বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বামী তথা দলীয় প্রধান পরিচালিত সরকারের বিরুদ্ধেই সরব হলেন বিধায়ক স্ত্রী।

    ব্যক্তিগত সম্পর্ককে দূরে সরিয়ে রেখে, বিধানসভার প্রোটোকল মেনে স্পিকারকে সম্বোধন করে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির রূপায়ণে দেরি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। স্বামী-স্ত্রীর এই প্রকাশ্য ও পেশাদার রাজনৈতিক বিতর্ক সচরাচর দেখা যায় না।

    বিধায়ক মেহতাব চান্দির মূল অভিযোগ ছিল রাজ্যের প্রাণীসম্পদ বিকাশ সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্পের ধীরগতি নিয়ে। তিনি সরকারের কাছে জানতে চান:

    স্ত্রীর তীর্যক প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা স্বীকার করে নেন, রাজ্যে পশুসম্পদ উন্নয়নের জন্য এই কলেজগুলি অত্যন্ত জরুরি। কর্মী সঙ্কটও একটি বড় চিন্তার বিষয়। দ্রুত শূন্যপদ পূরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

    প্রকল্পগুলি রূপায়ণে দেরির কারণ হিসেবে তিনি জানান:

    মেঘালয় বিধানসভার এই ভিডিয়ো দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। স্বামী-স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও বিধানসভার ভিতরে সাংমা দম্পতির এই সম্পূর্ণ পেশাদারি আচরণ এবং গঠনমূলক বিতর্ক নেটিজেনদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

    কেউ বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের এক সুন্দর উদাহরণ’। কেউ বলেছেন, ‘রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র নিয়ে অনেক কথা হয়, কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করল, একই পরিবারের সদস্য হয়েও দেশের বা রাজ্যের স্বার্থে গঠনমূলক বিতর্ক সম্ভব।’

    কেউ কেউ আবার একটু মজার ছলেও মন্তব্য করেছেন, ‘বাড়ির ঝগড়া বিধানসভায়! তবে এটা ভালো যে ঝগড়াটা রাজ্যের উন্নয়নের জন্য হচ্ছে, ব্যক্তিগত কারণে নয়।’

    তবে কিছু নেটিজ়েন এই ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাদের মতে, ‘সবই লোক দেখানো। আসলে ক্ষমতা তো এক পরিবারের হাতেই থাকছে।’

  • Link to this news (এই সময়)