ফ্লাইট থেকে সবে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Prime Minister Narendra Modi)। তাঁকে স্বাগত জানাতে স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুকে (Sara Netanyahu) নিয়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Israel Prime Minister Benjamin Netanyahu)। মোদীকে দেখেই যেন চমকে উঠলেন তিনি, ‘আরে, আপনারও গেরুয়া।’ আসলে স্ত্রী সারা এ দিন গেরুয়া রঙের কোট পরেছিলেন। আর মোদীর কোটের পকেটে ছিল গেরুয়া রঙের পকেট স্কোয়ার। রঙের এই মিল দেখেই চমকিত বেঞ্জামিন। তাঁর কথা শুনে হেসে ফেলেন মোদীও। দুই রাষ্ট্রনেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ, সেটা বুধবার ইজ়রায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের (Ben Gurion Airport) এই দৃশ্যই বুঝিয়ে দিল বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে দুই দিনের ইজ়রায়েল সফরে গিয়েছেন মোদী। এ দিন বিকেলে ইজ়রায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পা রাখেন তিনি। তাঁকে রেড কার্পেটে সংবর্ধনা জানায় নেতানিয়াহু সরকার। টারম্যাকে স্ত্রী সারাকে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নেতানিয়াহু নিজে। মোদীকে দেখা মাত্র হাসি মুখে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। তার পরে মোদীর পকেট স্কোয়ারের দিকে আঙুল তুলে স্ত্রীকে বলেন, ‘এই দেখো, তোমার কোটের রঙের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।’ এই কথা শুনেই হেসে ফেলেন মোদী। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, দুটোই গেরুয়া রঙের।’ সেই হাসিতে যোগ দেন সারাও। নেতানিয়াহু ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন, দুই দেশের সম্পর্কের মতো তাঁদের পোশাকও ‘অনেক মিল’ রয়েছে। তবে মোদীকে স্বাগত জানানোর জন্যই সারা গেরুয়া রঙের কোট পরেছিলেন কিনা, তা জানা যায়নি।
২০১৭ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বার ইজ়রায়েল সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এটা তাঁর দ্বিতীয় সফর। এ দিন ইজ়রায়েলের সংসদ নেসেটে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে মোদীর। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ভাষণ শুরু হবে। তার পরে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তিনি যাবেন হলোকাস্ট জাদুঘর ইয়াদ ভাসেমে। পাশাপাশি প্রযুক্তিবিদ ও শিল্পপতিদের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ারও কথা রয়েছে তাঁর।
আগামী কাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ইজ়রায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজ়গের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে মোদীর। বৈঠক করবেন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও। দুই দেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, অর্থনীতি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে কী ভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারে সেই নিয়ে আলোচনা করবেন তাঁরা। এই সংক্রান্ত একাধিক মউ স্বাক্ষর হওয়ারও কথা রয়েছে।
দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই মূলত এই সফরের লক্ষ্য। গত কয়েক মাসে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে আমেরিকা। যে কোনও সময়ে যুদ্ধের দামামা বেজে যেতে পারে বলে অনুমান। সেই সময়ে মোদীর এই সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।