•  চূড়ান্ত তালিকায় কাটা যেতে পারে ১কোটি ২০ লক্ষ নাম!
    আজকাল | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক:  আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। তার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে। তাঁর অভিযোগ, “লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি”-র অজুহাতে গোপনে ভোটারদের নাম ছাঁটাই করা হচ্ছে।

    মঙ্গলবার ভবানীপুর থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৮৫০ কোটি টাকার ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন তিনি। একইসঙ্গে ১২.৫ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে সাইকেল বিতরণের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শরণার্থী কলোনির স্বীকৃতি প্রদান, ফুরফুরা শরীফে ১০০ শয্যার হাসপাতাল উদ্বোধন, একাধিক ‘মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব’ নির্মাণের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ৫০ শয্যার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লক চালু হয়েছে, বাঁকুড়ায় দ্বারকেশ্বর নদীর উপর নতুন সেতু তৈরি হয়েছে, পরিবহণ ব্যবস্থায় ১২০টি সিএনজি বাস যুক্ত হয়েছে এবং মালদা শহরে ভূগর্ভস্থ কেবল নেটওয়ার্কের সূচনা হয়েছে। তাঁর কথায়, “উন্নয়ন থেমে নেই, রাজ্যের সর্বত্র কাজ চলছে।”

    ভবানীপুরের জৈন মানস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জৈন ধর্ম ও বাংলার ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পবিত্র ‘নবকার মহামন্ত্র’ মানস্তম্ভে চারটি ভাষায় উৎকীর্ণ রয়েছে এবং তার শীর্ষে লেখা রয়েছে ‘অহিংসা’। মহাবীর-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাঁর শৈশবের নাম ‘বর্ধমান’, এবং সেই সূত্রেই বর্ধমান জেলার নামকরণ। পুরুলিয়া-সহ বাংলার বিভিন্ন জেলায় জৈন মন্দির ছড়িয়ে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সল্টলেকে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ‘মাইনরিটি সেন্টার’ গড়ে তোলা হবে, যেখানে জৈন, শিখ, মুসলিম, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায় তাঁদের অনুষ্ঠান করতে পারবেন। পাঞ্জাবি সম্প্রদায়ের অনুরোধে সন্ত কুটিয়া গুরুদ্বারের গেট নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও পূরণ হয়েছে বলে জানান তিনি। রমজান ও আসন্ন হোলি উপলক্ষে শুভেচ্ছাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ধনধান্য স্টেডিয়ামের পরিবর্তে ২ মার্চ বিকেল ৪টেয় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম-এ হোলি উৎসব আয়োজনের কথা ঘোষণা করেন।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবানীপুরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করেন। দুর্গাপূজা, দীপাবলি, বৈশাখী—সব উৎসবেই পারস্পরিক সহযোগিতা থাকে। মানস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি অহংকার ত্যাগ করে সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার অঙ্গীকারের কথাও জানান। নিজের কোটা থেকে ২১ জন যুবককে নিয়োগপত্র প্রদান এবং তাঁদের প্রথম এক বছর মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

    এসআইআর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র কারণ দেখিয়ে আরও নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মৃত ভোটারের সংখ্যা ২০ লক্ষ ধরলে মোট বাদ পড়া নামের সংখ্যা ১ কোটি ২০ লক্ষে পৌঁছতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা। তিনি জানান, এই ইস্যুতে তিনি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের  দ্বারস্থ হয়েছেন এবং মামলা এখনও বিচারাধীন।

    আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও ১৪ ফেব্রুয়ারির সময়সীমা পেরিয়ে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকা প্রকাশের পর পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ভোটারের রাজনৈতিক পরিচয় বা ধর্ম দেখেন না; তাঁর একমাত্র লক্ষ্য গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা। বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে তিনি তার বিরোধিতা করবেন। “মানুষের অধিকার যেন কেউ কেড়ে নিতে না পারে”—এই প্রার্থনাই মানস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে করেছেন বলে জানান তিনি। চূড়ান্ত তালিকায় যদি বৈধ ভোটারদের অধিকার পুনর্বহাল হয়, তবে তিনি আবার কৃতজ্ঞতা জানাতে মানস্তম্ভে ফিরবেন বলেও ঘোষণা করেন।
  • Link to this news (আজকাল)