১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারে, সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বুধবার ভবানীপুরের জৈন সম্প্রদায়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রথমে শুনেছিলাম ৫৮ লক্ষ নাম বাদ যাবে। পরে শুনলাম তা ৮০ লক্ষ হতে পারে। এখন পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ দিয়ে দিতে পারে।’ তাঁর এই মন্তব্যে রাজ্যের সম্ভাব্য ভোটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, ‘কার নাম বাদ যাচ্ছে— হিন্দু, মুসলিম, শিখ না জৈন, সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যাঁদের নাম থাকবে না, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে তিনি ন্যায়ের জন্য প্রার্থনা করছেন বলেও উল্লেখ করেছেন।
শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। যদিও পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের সুযোগ থাকবে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের আগে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ বাধ্যতামূলক নয়। ফলে যাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে না, তাঁদের ভোটাধিকার আপাতত স্থগিত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ অভিযোগ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিচার বিভাগের আধিকারিকদের দিয়ে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হিসেব অনুযায়ী, যদি এক হাজারের বেশি বিচার বিভাগের আধিকারিক দায়িত্ব নেন এবং প্রত্যেকে দিনে গড়ে ২৫০টি আবেদন পরীক্ষা করেন, তবে প্রায় ২০ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। তবে সময়সীমা কম থাকায় সব অভিযোগ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ তথ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে এবং আরও প্রায় ৩২ লক্ষ নাম ‘অসনাক্ত’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এদিন ভবানীপুরের এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মোট ৩৯০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৪৬টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং ৪৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭০টি নতুন প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। এর মধ্যে পরিবহণ, শিক্ষা, দমকল, সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং পুলিশ পরিকাঠামো সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প রয়েছে।
ছাত্রছাত্রীদের জন্য ‘সবুজসাথী’ প্রকল্পের অধীনে ৫০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ লক্ষ ৫৬ হাজার সাইকেল বিতরণের সূচনাও করেন তিনি। এছাড়া ৫৯ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নতুন সি.এন.জি বাস চালু, দমকল কেন্দ্রের নতুন ভবন উদ্বোধন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে ২০ জন উপভোক্তার হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য উন্নয়নকে প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, পরিবহণ ও নিরাপত্তা— সব ক্ষেত্রেই আমরা কাজ করছি।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা বাস্তব রূপ নিলে তা রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটাধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক অধিকার হওয়ায় এই বিষয়টি আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক বিতর্কের কারণ হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।