• গায়েব শৈত্যপ্রবাহ: গত ৫ বছরে এমন ‘সাদামাঠা’ ফেব্রুয়ারি দেখেনি ভারত
    এই সময় | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: গত কয়েক বছরে গোটা দেশে ফেব্রুয়ারি মাসে শৈত্যপ্রবাহ এবং শীতল দিন পরিস্থিতি কত বার তৈরি হয়েছে, তার হিসেব কষতে বসেছিল মৌসম ভবন। তার পরে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২২–এ ছ’বার, ২০২৩–এ একবার, ২০২৪–এ সাতবার এবং ২০২৫–এ পাঁচবার— অর্থাৎ, গত চার বছরে ফেব্রুয়ারির ভারত ১৯ বার শৈত্যপ্রবাহ ও শীতল দিন দেখেছিল। কিন্তু এ বছর? না, ২০২৬–এর ফেব্রুয়ারির আর দু’দিন বাকি, এখনও পর্যন্ত দেশে শৈত্যপ্রবাহ এবং শীতল দিনের দেখা নেই।

    কাকে বলে ‘শৈত্যপ্রবাহ’? ‘শীতল দিন’–ই বা কী? ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) পরিভাষায়, যে দিন কোনও এক জায়গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪.৫ ডিগ্রি থেকে ৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নামে, তাকে ‘শীতল দিন’ হিসেবে গণ্য করা হয়। যদি তাপমাত্রা ৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে আরও নেমে যায়, তবে তাকে বলে ‘তীব্র শীতল দিন’। আবার, কোনও জায়গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪.৫ ডিগ্রি থেকে ৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেলে তাকে ‘শৈত্যপ্রবাহ’ বলা হয়। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি নেমে গেলে তাকে গণ্য করা হয় ‘তীব্র শৈত্যপ্রবাহ’ হিসেবে। আবহবিদরা জানাচ্ছেন, শৈত্যপ্রবাহ ও শীতল দিন বিবেচনা করা হয় যথাক্রমে রাত ও দিনের তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে।

    আইএমডি–র তথ্য বলছে, ২০২৬–এর জানুয়ারির ৩১ দিনের মধ্যে ২৪টি দিনই দেশের কোনও কোনও জায়গায় হয় ‘শৈত্যপ্রবাহ’, না–হয় ‘শীতল দিন’ পরিস্থিতি নথিবদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সব চেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ফেব্রুয়ারিতে এমন একটি দিনও এখনও পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়নি। দেশ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে শীতকালের বিদায় নেওয়ার দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ, শীত বিদায় নিতে এখনও দু’দিন বাকি। কিন্তু মৌসম ভবনের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে বলা যায়, এই দু’দিন দেশের কোথাও শৈত্যপ্রবাহ বা শীতল দিনের সম্ভাবনা নেই। কাজেই, আবহবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত পাঁচ বছরের হিসেবে ভারত এমন ‘সাদামাঠা’ ফেব্রুয়ারি দেখেনি।

    আবহবিদদের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ জানুয়ারি রাজস্থানের বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকা, হিমাচল প্রদেশ ও হরিয়ানায় শৈত্যপ্রবাহ এবং তীব্র শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি ছিল। আবার, হিমাচল প্রদেশের কিছু অংশে ২৭ জানুয়ারিতেও শীতল দিন ও তীব্র শীতল দিন অবস্থা বজায় ছিল। তার পর থেকেই দেশে শীতের তীব্রতা কমতে শুরু করে।

    তা হলে কি ভারতে শীতের প্যাটার্নে কোনও পরিবর্তন শুরু হয়েছে? শীতের বৈশিষ্ট্যগুলো কি আর শীতের দু’মাসেও দেখা যাবে না?

    সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (সিএসই)–এর নির্দেশে যে আবহাওয়া–দুর্যোগের মানচিত্র (ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাটলাস) তৈরি করা হয়েছে, তার বিশ্লেষণ কিন্তু সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ২০২২ থেকে ২০২৬–এর মধ্যে শৈত্যপ্রবাহ প্রধানত উত্তর, উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্য ভারতেই কেন্দ্রীভূত ছিল। দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব ভারতে সেটা হয়নি। অথচ তামিলনাড়ু ও কর্নাটকের পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত শৈত্যপ্রবাহের নজির অতীতে রয়েছে। রেকর্ড বলছে, ২০২২–এ ১৪টি রাজ্যে, ২০২৩–এ ১৭টি, ২০২৪–এ ১৩টি, ২০২৫–এ ৯টি এবং ২০২৬–এ ১৫টি রাজ্যে শৈত্যপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, একটা সময়ে শৈত্যপ্রবাহ বা শীতল দিনের পরিস্থিতি নভেম্বরে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বজায় থাকত। তার পরে দেখা গেল, তার বিস্তার ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছে। আবহবিদরা দেখেছেন, ২০২৫ সালের শৈত্যপ্রবাহের ৬৫ শতাংশই রেকর্ডেড হয়েছিল ডিসেম্বরে। তার জন্যই মনে করা হচ্ছে যে, ভৌগোলিক পরিবর্তন ঘটছে ভারতে শৈত্যপ্রবাহের ঘটনাগুলোর।

  • Link to this news (এই সময়)