• ট্র্যাফিক নিয়ম লঙ্ঘন করে জাতীয় সড়কে দুই শ্রমিককে ধাক্কা চিকিৎসকের, মৃত ১
    এই সময় | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, বর্ধমান: চিকিৎসকের (Doctor) গাড়ির ধাক্কায় জাতীয় সড়কে রোড মার্কিংয়ের কাজ করতে আসা ঝাড়গ্রামের (Jhargram) এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ওই একই অঞ্চলের অন্য এক শ্রমিক এই মুহূর্তে গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন বর্ধমান মেডিক্যাল হাসপাতালে (Burdwan Medical Hospital)। পুলিশ পরে সেই চিকিৎসকের গাড়ি চিহ্নিত করে চালককে আটক করে জামালপুর থানায় নিয়ে এসেছে। মৃত শ্রমিকের নাম কালীপদ রায় (৪৮)। আহত শ্রমিকের নাম দিলীপ রায়। জামালপুর থানার আবুজহাটি এলাকায় বুধবার ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের নাকা চেকিং পোস্ট সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    মৃত কীলপদ এবং গুরুতর আহত দিলীপের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের রাঙ্গুনিয়া এলাকার বুড়িমোলে গ্রামে। ঘটনাস্থলে থাকা অন্য শ্রমিকদের বক্তব্য, তাঁরা যখন কাজ করছিলেন, সেই সময়ে একটি গাড়ি দুই শ্রমিককে ধাক্কা দিতে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়। অবশ্য সেই গাড়ির নম্বর লিখে নেন শ্রমিকরা। তাঁদের অভিযোগ, ট্র্যাফিক (Traffic) নিয়ম লঙ্ঘন করেই বেপরোয়া গতিতে এসে ওই গাড়িটি ধাক্কা মারে দুই শ্রমিককে। তাঁরা দু’জনেই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। ঘটনার বীভৎসতায় শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। দুর্ঘটনার জেরে জাতীয় সড়কে বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। পুলিশের তৎপরতায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে জানা গিয়েছে, সেই ঘাতক গাড়িটি বর্ধমানের এক চিকিৎসকের। স্থানীয়দের থেকে পাওয়া সূত্র ধরে ওই গাড়ি ও তার চালককে আটক করে জামালপুর থানায় আনা হয়। কালীপদের পরিবারে স্ত্রী ও তিন ছেলে রয়েছে। বড় ছেলের বিয়ে হয়েছে। তাঁর উপার্জনেই চলে পরিবার। ইটের গাঁথনি দিয়ে একতলা বাড়ি করলেও অর্থের অভাবে জানলা–দরজার কাজ শেষ হয়নি। কালীপদর বড় ছেলে দেবু রায় বলেন, ‘পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাবা রোড ম্যাপিংয়ের (Road Mapping) কাজে করছেন। সাবধানতার সাইনবোর্ড বসিয়ে কাজ করার পরেও বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় বাবার যে ভাবে মৃত্যু হলো, তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।’

    এ দিকে, অন্য দু’টি পৃথক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়ে দু’জনের। আহত হন ছয় জন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভাতার বাজার থেকে টোটোয় ছয় যাত্রীকে নিয়ে চালক সুমন্ত শিট নাসিগ্রাম যাচ্ছিলেন। বড়বেলুন গ্রামের কাছে উল্টো দিক থেকে আসা একটি ডাম্পার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টোটোয় ধাক্কা মারে। ধাক্কায় দুমড়ে যায় টোটোটি। স্থানীয়রা ছুটে এলে পালায় ডাম্পারটি। আহতদের ভাতার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় টোটোর চালক সুমন্তর (৩০)। যাত্রীদের চার জনকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুধবার হাসপাতালে মৃত্যু হয় মহিলা যাত্রী মঞ্জু মাঝির (৫১)। বাড়ি ভাতার থানার নিত্যানন্দপুর গ্রামে। স্বামী সনাতম মাঝি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। মঞ্জুর ছেলে প্রণব মাঝি বলেন, ‘মা–বাবা মঙ্গলবার নাসিগ্রামে দিদির বাড়ি যাচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পরেই গ্রামের একজন ফোন করে হাসপাতালে আসতে বলে। গিয়ে দেখি মা–বাবা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়ছেন। হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হলো না। বাবার কী হবে, জানি না।’ ভাতার থানা সূত্রে খবর, এলাকার কয়েকটি এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘাতক ডাম্পারকে ধরার চেষ্টা করছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)