এই সময়, হাওড়া: বরাবরই খবরের শিরোনামে উত্তর হাওড়া (North Howrah)। সময় বদলালেও বদলায়নি উত্তর হাওড়া! এক সময় লোহার ছাঁট তথা বাবরির ব্যবসার দখলদারি কার থাকে থাকবে, তা নিয়ে বিবাদের জেরে মাঝে মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠত উত্তর হাওড়া, বালি ও লিলুয়া এলাকা। সেটা অনেকটা বন্ধ হলেও বেআইনি প্রোমোটিং, জমি ও পুরোনো বাড়ি দখল এবং তোলাবাজির একচ্ছত্র দখলদারি নিয়ে ফের অশান্ত হয়ে উঠছে এলাকা। বুধবার ভোরে উত্তর হাওড়ার পিলখানা এলাকায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রোমোটারের খুনের (Murder) ঘটনা তারই পরিণতি বলে মনে করছেন পুলিশের একাংশ। এই খুনের পিছনে কোনও সঠিক কারণ জানা না গেলেও পুলিশের অনুমান, সম্ভবত তোলাবাজি এবং প্রোমোটিং ব্যবসার দখলদারি নিয়েই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, গুলিতে নিহত পিলখানার বাসিন্দা মহম্মদ সফিক খান কয়েক বছর হলো প্রোমোটারি ব্যবসায় নাম লিখিয়েছেন।
তার আগে তিনি ফাটা জিন্সের কারবার করতেন। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শেখ হারুন খানও দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রোমোটারি করছেন। সফিকের তুলনায় হারুনের রাজনৈতিক প্রতিপত্তি অনেক বেশি। কিন্তু সম্প্রতি সফিক তার প্রোমোটিং ব্যবসায় ক্রমেই থাবা বসাতে শুরু করেছিল। সেটা মন থেকে মেনে নিতে পারেনি হারুন। তাই এলাকার দাগী দুষ্কৃতী রোহিত হুসেনকে সঙ্গে নিয়ে সফিককে খুন করার ছক করে। সেই মতো এ দিন ভোরে সফিককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন (Murder) করে হারুন ও রোহিত। এর জেরে ফের প্রশ্নের মুখে উত্তর হাওড়ার আইনশৃঙ্খলা (Law And Order) পরিস্থিতি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পিলখানা এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ ও বেআইনি ব্যবসার দখল নিয়ে অশান্তি বাড়ছিল। বিশেষ করে বেআইনি প্রোমোটিং এবং ফাটা জিন্সের পাইকারি ব্যবসা কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে কয়েকটি গোষ্ঠীর মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। তদন্তকারীদের মতে, ব্যবসায়িক রেষারেষিতেই খুনের ঘটনা ঘটেছে। যদিও পরিবারের লোকেদের দাবি, তোলা না দেওয়াতেই সফিককে খুন হতে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এক সময়ে রেলের ‘বাবরি’ ব্যবসা নিয়ে গোলমাল হতো। তা নিয়ে সংঘর্ষ, বোমাবাজি ও খুনোখুনির ঘটনা ঘটেছে অতীতে। রেলে ই–টেন্ডারিং শুরু হওয়ার পর থেকেই কয়েক বছর ধরে সেই উত্তেজনা অনেকটাই স্তিমিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পিলখানা ও সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি দখলদারি, প্রোমোটিং এবং বিভিন্ন ছোট-বড় ব্যবসাকে কেন্দ্র করে নতুন করে অশান্তির আগুন ছড়াচ্ছে।
খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হারুনের সঙ্গে উত্তর হাও়ডার তৃণমূল (TMC) বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর সামনে একটি ছবি সামনে আসার পরে তাতে রাজনৈতিক রং লেগেছে। এ নিয়ে শাসকদলকে আক্রমণ করতে ছাড়ছে না বিরোধীরা। যদিও রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়ও এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘রাজনীতিতে অনেক সময়ে অপরাধীরা জনপ্রতিনিধিদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু কেউ যদি খুনের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধ করে থাকে, তাকে ছাড়া হবে না। পুলিশ নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করবে, সেখানে দলীয় রং দেখা হবে না।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ না প্রমাণ হচ্ছে, ততক্ষণ কাউকে দোষী বলা যায় না। তবে অপরাধ প্রমাণিত হলে, কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ কমিশনারকে বলব, দ্রুত গ্রেপ্তারি নিশ্চিত করতে এবং জেলাজুড়ে শান্তি বজায় রাখতে।’